বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১০টার পর শাহবাগে অবস্থান নেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা মাহাদী হাসানের মুক্তির দাবি তোলেন।
এর আগে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ এক বার্তায় বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ শাখার সদস্যসচিব মেহেদীকে ‘পুলিশ লীগ’ কতৃক গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র, আইন উপদেষ্টাকে কল দেওয়ার পরেও তাদের পাওয়া যায়নি। আইজিপিকে কল দেওয়ার পর তার কথাবার্তার টোন সন্তোষজনক না। হবিগঞ্জের এসপির ভাষ্য হলো মাহাদীকে এখনই ‘পুলিশ লীগ হত্যা মামলায়’ অ্যরেস্ট দেখানো হবে না। আপাতত অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। সেলুকাস।
আরও পড়ুনবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই নেতা গ্রেফতার বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহাদীর মুক্তি দাবিতে শাহবাগে অবস্থানের ঘোষণা
তিনি বলেন, এদিকে আনঅফিশিয়াল সূত্রে পুলিশের মধ্য থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশের ইন্টার্নাল প্রেশারে পরেই মাহাদীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অর্থাৎ, পুরো পুলিশি আমলাতন্ত্র ছাত্র-জনতার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার প্রতি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে নির্বাচনকালীন সহিংসতাকারী ট্যাগ দিয়ে সিরিজ গ্রেফতারের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি।
এর আগে শুক্রবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতারের পর শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে তাকে ছাড়াতে যান মাহাদী। এসময় তার দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলছেন, ‘আপনাকে বলতে হবে, আমার ভাইকে কেন গ্রেফতার করা হলো? আপনি বলেছেন আন্দোলনকারীতো কী হয়েছে, সে তো ডেভিল। এখানে আমার ১৭ জন ভাই শহীদ হয়েছেন। আপনি কেন বলেছেন, ও ডেভিল ছিল। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে গভর্নমেন্ট ফরম করেছি। আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আমাদের ছেলেদের গ্রেফতার করেছেন। আবার বার্গেনিং করছেন এবং বলছেন আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে।দেশের যে কয়টি জায়গায় শক্তিশালী আন্দোলন হয়েছে, এর মধ্যে হবিগঞ্জ একটি। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম।’
এরপর শনিবার রাতে মাহাদী হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এনএস/কেএসআর