বছরের শুরু থেকে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিম বাতাস। গত তিনদিন থেকে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষকে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজও সকাল থেকে বিকাল দুটা পর্যন্ত কোনো সূর্যের দেখা মিলেনি। বৃষ্টির মত ঝরছে শিশির। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে। পাশাপাশি হিম শীতল বাতাস জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে। তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। এদিকে তীব্র শীতের কারণে খেটে খাওয়া অনেক মানুষ কর্মে যেতে পারেনি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝড় ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানগড়া গ্রামের ইসমাইল আকন্দ বলেন,রাতদিন এখন শীত লাগছে। শরীলোত আর ঠান্ডা সহ্য হয়েছে না। এ্যালা কামাইও নাই, গরম কাপড়ও নাই হামারে।
ফুলছড়ি উপজেলার কাঁটাতার এলাকার বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, নদীর পারত বাড়ি। নদীর ঠান্ডা বাতাস হু-হু করি বেড়ার ফাঁক দিয়া ঘরোত ঢোকে, তখন ছেঁড়া খ্যাতা গাওত দিয়া কোঁকড়া নাগি থাকো।একই এলাকার বয়সের ভারে ন্যুব্জ তাওয়া বিবি। শীতে তিনিও কাবু।
তিনি বলেন, ঝরির মতো রাইতো শীত পড়োছে। দিনোত কুয়াশার তকনে বেড়া যাওছে না। ঠান্ডাতে হাত–পাও বরফ হইছে। খুব কষ্টে আছোম। একনা শীতের কাপড় হইলে মোর খুব ভাল হইল হয়।
সদরের বোয়ালী গ্রামের কৃষক সাইফুল বলেন, বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ার কারণে বীজতলা নিয়ে চিন্তায় আছি। আর কয়েকদিন এভাবে চলতে থাকলে আমাদের অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উত্তরের কয়েকটা জেলায় এবার বেশ শীত পড়ছে। তার মধ্যে গাইবান্ধাও। এবারে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সমান থাকার কারণে রাত দিন সমান শীত অনুভব হচ্ছে। তবে শীত আরও বাড়ার আশংকা করছেন এ কর্মকর্তা।
আনোয়ার আল শামীম/আরএইচ/এমএস