ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের এক বিরল প্রতীক। তিনি গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে (প্রধানমন্ত্রী) পরিণত হয়ে বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা ও শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় সারাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তার জাতীয় ঐক্য গঠনের সক্ষমতার ঐতিহাসিক প্রমাণ। তিনি রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে অ্যাকাডেমিক গবেষণা, সাহিত্যকর্ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার নেতৃত্ব ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে।
আরও পড়ুনক্ষমতায় এলে ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আশ্বাস তারেক রহমানের ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ফল প্রকাশ, ৯০ শতাংশই ফেল
শোকসভায় সূচনা বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক ও আপসহীন গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতীক। তার শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ শিক্ষাবিদ ও প্রশাসকরা।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শোকসভা। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। এরপর ‘শিক্ষা ও জাতীয় ঐক্যে খালেদা জিয়া’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে মিলনায়তনের বাইরে স্থাপিত শোকবই উদ্বোধন করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। শোকবইয়ে সইয়ের জন্য এটি আগামী তিনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে রাখা থাকবে। শোকসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এফএআর/কেএসআর