আন্তর্জাতিক

যৌথ বিবৃতিতে কী বার্তা দিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন?

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি যাতে আর উত্তপ্ত না হয় সে জন্য সংযম ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৬টি সদস্য রাষ্ট্র। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সব দেশকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব পক্ষকে সংযম ও শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে যাতে উত্তেজনা না বাড়ে এবং সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা যায়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে চলতে হবে।

হাঙ্গেরি ছাড়া ইইউর বাকি ২৬টি সদস্য রাষ্ট্র এই বিবৃতিকে সমর্থন জানিয়েছে। এতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার বিশেষ দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগেই জানিয়েছে যে আটক হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে বৈধতা হারিয়েছেন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে দেশটির জনগণের নেতৃত্বে একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ইইউ। ভেনেজুয়েলার জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

এতে আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ ও মাদক পাচার মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতির পূর্ণ সম্মানের মধ্য দিয়ে করতে হবে বলে জোর দেওয়া হয়।

ইইউ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে যাতে সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্বে একটি আলোচনাভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও চলমান সংকট সমাধানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলায় আটক সব রাজনৈতিক বন্দিকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি দেশটিতে অবৈধভাবে আটক ইউরোপীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কনস্যুলার কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মধ্যরাতে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ভেনেজুয়েলায় থেকে অপহরণ করে ট্রাম্পের বাহিনী। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউ ইয়র্কে। আপাতত ব্রুকলিনের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে তাদের। যুক্তরাষ্ট্রেই বিচারের আওতায় আনা হবে ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্ট লেডিকে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

কেএম