অর্থনীতি

সম্প্রসার হবে বাংলাদেশ লোক-কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ কাজের জন্য ৩১ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’র স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ১৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৯ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং-এমবি-০১(বি)-এর আওতায় নির্মাণ কাজের ক্রয়ের একটি প্রস্তাব নিয়ে আসে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ-প্রকল্পের প্যাকেজ নং-এমবি-০১-(বি)-এর আওতায় নির্মাণ কাজে ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে চারটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার এম/এস এম.এন. হুদা কন্সট্রাকশন লিমিটেডের কাছ থেকে ৩১ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার টাকায় প্যাকেজের পূর্ত কাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একনেক থেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্যাকেজের আওতায় মিউজিয়াম ভবন সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় পাম্প হাউস, গার্ড শেড, ঘাটলা, আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভায়ার, ওয়াকওয়ে, কালভার্ট, কম্পাউন্ড ড্রেন, সীমানা প্রাচীর, প্রবেশপথ, শোর প্রোটেকশন, উৎসবের জন্য হাট বা কটেজ, গাড়ি পার্কিং, প্রধান গেট এবং বিদ্যমান মিউজিয়াম ভবনের সংস্কার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এর স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা একটি একাডেমিক সার্কেল ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজ ক্রয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এটিও অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এর স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট ছয়তলা একটি একাডেমিক সার্কেল ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে মাত্র একটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি’র সুপারিশে একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (টিসিইএল) এবং শেলটেক ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের (এসইএল) কাছ থেকে ১৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৯ টাকায় এই পূর্ত কাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের প্রথম সংশোধন একনেক থেকে অনুমোদিতে হয় ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর।

প্যাকেজের আওতায় আছে চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে ছয়তলা একাডেমিক সার্কেল বিল্ডিং নির্মাণ, যার মধ্যে রয়েছে সিভিল, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল, ফায়ার ডিটেকশন ও প্রোটেকশন সিস্টেম এবং গ্যাস সংযোগ।

এমএএস/এমএমকে