ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আদালত।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
কয়েকজন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ফলে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।
মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৫৯ জন পলাতক।
অপরদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাত করে পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশ-বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন ওই জুম মিটিংয়ে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের হোস্টিংয়ে ওই মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়। ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া অনলাইন ওই মিটিংয়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে গৃহযুদ্ধ ঘোষণাসহ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। পরে সিআরপিসির ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে তাকেই মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, সাবিনা আক্তার তুহিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, অধ্যাপক তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, অ্যাডভোকেট এএফএম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার ও পংকজ নাখ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম এবং শরিফুল ইসলাম রমজান।
এমডিএএ/এসএনআর/এএসএম