দেশজুড়ে

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আফ্রিকান তরুণীকে বিয়ে করে দেশে এলেন সজীব

ভালোবেসে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিককে বিয়ে করেছেন বাংলাদেশের ছেলে সজীব বেপারী। সম্প্রতি সেই স্ত্রীকে নিয়ে দেশে এসেছেন তিনি। আয়োজন করা হয়েছে বৌভাতের অনুষ্ঠান। আফ্রিকার বধূ দেখতে ওই বাড়িতে অনেকে ভিড় করছেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাউতলী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মিন্টু বেপারী ও লিপি বেগমের বড় ছেলে সজীব বেপারী (৩০)। সাত বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে কেপটাউন সিটির আলেকজান্ডার এলাকার একটি সুপারশপের ব্যবসা শুরু করেন।

সেখানে চার বছর আগে পরিচয় হয় সেখানকার তরুণী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মাহেরা দত্তের সঙ্গে। পরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। ২০২৩ সালের ১৮ জুন উভয়ের পরিবারের সম্মতিতেই আফ্রিকাতেই তাদের বিয়ে হয়। পরে এক কন্যাসন্তান জন্ম দেন এই দম্পতি।

সম্প্রতি স্ত্রী মাহেরাকে দেশে নিয়ে আসেন সজীব। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বৌভাতসহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চলতি শেষের দিকে আবার দক্ষিণ আফ্রিকা চলে যাবেন তারা।

এদিকে বিদেশি বধূ দেখতে প্রতিদিনই সজীবের বাড়িতে ভিড় করছেন পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই প্রথম নিজের চোখে আফ্রিকার নাগরিককে দেখতে পেলাম। বিদেশে হলে কী হবে! সে খুব ভালো। সবার সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলে। আমরা প্রতিবেশীরাও এই বিয়েতে খুব খুশি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ইঞ্জিনিয়র মাহেরা দত্ত বলেন, ‘সজীব খুবই ভালো ছেলে। ওর সঙ্গে কথা বলে আমার বেশ আনন্দ হতো। এরপর প্রেমে পড়ে যাই। পরিবার অনুমতি দিলে দুজনের বিয়ে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে আরও ভালো লেগেছে। এই দেশের মানুষ খুব ভালো। আমার খুব ভালো লেগেছে।’

প্রবাসী সজীব বেপারী বলেন, ‘বিদেশে থাকার সুবাদে মাহেরার সঙ্গে প্রেম হয়। পরে আমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। ওর বাবা ফ্রান্স প্রবাসী এবং একটি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার।’

বিদেশি পুত্রবধূকে পেয়ে খুশি সজীবের বাবা-মাও। মা লিপি বেগম বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম পুত্রবধূ কেমন হয়! কিন্তু বাড়িতে আসার পর সেই ধারণা পাল্টে গেছে। অল্প অল্প বাংলা বোঝে, ইশারায় বাকিটা বুঝে নেয় সে। আমাদের সঙ্গে ভালোই আনন্দে আছে। তাকে পেয়ে আমরাও খুব খুশি।’

সজীবের বাবা মিন্টু বেপারী বলেন, ‘পুত্র ও পুত্রবধূর জন্য সবাই দোয়া করবেন। সবার দোয়া পেলে ওরা সারাজীবন ভালো থাকতে পারবে। আমরাও দক্ষিণ আফ্রিকায় বেড়াতে যাবো।’

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসআর/এমএস