খেলাধুলা

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ও সময়োচিত: আমিনুল

তিনি একজন ফুটবলার। গোলরক্ষক। জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক ও অধিনায়ক। ২০০৩ সালের সাফ ফুটবলজয়ী দলের অন্যতম সদস্য আমিনুল হক।

খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে মাঠের ফুটবলার আমিনুল হয়ে ওঠেন রাজপথের আন্দোলনের বলিষ্ঠ কণ্ঠ। আওয়ামী লীগের স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের পাশাপাশি একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।

গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী আমিনুলকে দেশের ফুটবল বোদ্ধারা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচনা করেন। অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমীর মতে, তিনি শহীদুর রহমান চৌধুরী সান্টু ও মোহাম্মদ মহসিনের কাতারেই স্থান পাওয়ার যোগ্য।

কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের ফুটবল ইতিহাসের এই সেরা গোলকিপার রূপ নেন রাজপথ কাঁপানো এক সৈনিকে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রথম সারির যোদ্ধা।

বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা, বিএনপি উত্তর মহানগরের আহ্বায়ক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ক্রীড়া সম্পাদক। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে আমিনুলের সম্পর্ক বরাবরের মতোই অটুট। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই ক্রীড়া সংগঠক আজ ৫ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। সেখানে তিনি প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্মৃতিচারণও করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমিনুল মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়া, বাংলাদেশ জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সব চ্যানেলে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার বিষয়েও কথা বলেন।

সব সিদ্ধান্ত সঠিক ও সময়োচিত উল্লেখ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল বলেন, ‘সবার আগে দেশ। বাংলাদেশ সবার আগে। দেশের মান-মর্যাদা ও সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই। বর্তমান পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশ যে বিকল্প ভেন্যু চেয়েছে— বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায়—সেখানেই খেলতে পারবে।’

মোস্তাফিজ ইস্যু প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, ‘মোস্তাফিজের মতো একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে তাকে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, ভারতে গেলে আমাদের ক্রিকেটাররা নিরাপদ থাকবে না। একজন খেলোয়াড় যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে পুরো দল কীভাবে নিরাপদ থাকবে?’

তিনি বলেন, ‘এই নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমরা মনে করি, অন্য কোনো দেশে— যেটির জন্য বিসিবি আহ্বান জানিয়েছে, যদি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ দল সেখানে অংশ নেবে।’

এআরবি/আইএইচএস