খেলাধুলা

শ্যুটিংয়ের যুগ্ম সম্পাদককে ১০ বছর নিষিদ্ধের সুপারিশ

তিন নারী শ্যুটারের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে বহিস্কার করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। দেশসেরা শ্যুটার কামরুননাহার কলি, তাসমায়াতি এমা এবং সাবেক শ্যুটার শারমিন আক্তার রত্না যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

বিষয়টি আড়ালে থাকেনি। সাজ্জাদকে শাস্তি প্রদানের জন্য দেশের নারী ক্রীড়াবিদরা মানববন্ধনও করেছিলেন। তারপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঘটনা খতিয়ে দেখতে গঠন করেছিল একটি তদন্ত কমিটি। সাবেক তারকা সাঁতারু নিবেদিতা দাসকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিতে দুই সদস্য ছিলেন সাবেক তারকা ভারোত্তোলক শাহরিয়া সুলতানা সূচি ও শ্যুটিং ফেডারেশনের সদস্য দাইয়ান।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠন করা এই তদন্ত কমিটি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তাই দেশের সম্ভাবনাময় খেলা শ্যুটিংয়ের মান অক্ষুন্ন রাখতে এবং নারী শ্যুটারদের নির্বিঘ্নে অনুশীলনের লক্ষ্যে জিএম হায়দার সাজ্জাদকে আগামী ১০ বছর বা তার অধিক সময়ের জন্য শ্যুটিংয়ের কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

সূত্র মতে, রোববার জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে শ্যুটিং খেলার উন্নয়ন ও নারী শ্যুটারদের নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে বেশ কিছুও সুপারশি করা হয়েছে বলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একটি সূত্র জানিয়েছে। অলিম্পিক স্কলারশিপ প্রাপ্ত শ্যুটারদের পাশাপাশি ক্যাম্পে অবস্থান করা অন্যান্য শ্যুটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্যাম্পে স্বতন্ত্র জেন্ডার সেফটি প্রোটোকল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আবাসিক শ্যুটারদের চলাচলের লিখিত গাইডলাইন প্রণয়ন, ক্যাম্প এলাকায় মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সিসিটিভি ব্যাবস্থা নিশ্চিত করা এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের মেয়াদ তিন মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় করার সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সাজ্জাদকে ১০ বছরের জন্য বহিস্কারের যে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অন্যতম শ্যুটার কামরুন্নাহার কলি তাতে সন্তুষ্ট। ‘শুনেছি কমিটি এই সুপারিশ করেছে। আমি মনে করি, কমিটি যথার্থ এবং প্রকৃত সিদ্ধান্তই নিয়েছে। আশা করবো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করবে’- জাগো নিউজকে বলেছেন কলি।

এই ঘটনায় ফেডারেশন কামরুনাহার কলিকে কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ করার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল। এ বিষয়ে কামরুননাহার কলি বলেন, ‘আমি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি, তদন্ত কমিটিতো সেই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। তাই তো তার বিরুদ্ধে বড় শাস্তির সুপারিশ করেছে। আমি অভিযোগ না করলে তো তদন্তও হতো না, তার অপকর্ম প্রমানও হতো না। তাহলে আমার বিরুদ্ধে কেন শাস্তির ব্যবস্থা? আশা করি ফেডারেশন আমার ওপর যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা প্রত্যাহার করবে।’

আরআই/আইএইচএস/