জাতীয়

উদ্ধার করা অস্ত্রটিই ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে: ডিবি

উদ্ধার করা অস্ত্রটিই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক রিপোর্টে অস্ত্রটি ব্যবহারের সত্যতা মিলেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান’ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সার্বিক তদন্ত ও স্বাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক রিপোর্ট, মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মামলায় নতুন তথ্য বা কারো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৭ জনের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৫ জন এখনো পলাতক। পলাতকরা হলেন— হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ, পালাতে সহায়তা করা মানবপাচারকারী ফিলিফ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি বেশ কিছু দিন ধরে গণসংযোগ করে আসছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।

কেআর/এমএএইচ/এমএস