বয়স ‘চুরি’ ও ভুয়া সনদে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের চাকরি সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে আগামী ১৪ জানুয়ারি মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়া-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টে আজ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে দুদকের ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। কিন্তু আজ দাখিল না করায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ আগামী ১৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিব জানান, গত বছর ২৩ অক্টোবর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্র সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সোভারেনটি’-এর আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশনা দেন। একই সাথে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) গঠিত তদন্ত কমিটিকে তখন ২০ কর্মদিবসের মধ্যে যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ওই তদন্তের প্রতিবেদনের একটি কপি আদালত জমা দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিযেছিলেন, আজ ওই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি দেওয়া যায়নি।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় মোরশেদ হোসাইন আজাদের বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন, অথচ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল অনূর্ধ্ব ৩৩ বছর। এছাড়া চাকরিতে আবেদনের সময় অভিজ্ঞতা দেখাতে ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করা হয়, যা পরবর্তীতে অডিটে ধরা পড়ে। অডিট আপত্তি উত্থাপিত হলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
রিটে আরও বলা হয়, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে মোরশেদ হোসাইন আজাদ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর যমুনা অয়েল কোম্পানির মোংলা ইন্সটলেশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপক (পরিচালন) এ কে এম জাহিদ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তারিত অভিযোগ দুদকে দাখিল করলেও তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রিট আবেদনে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মোরশেদ হোসাইন আজাদকে চাকরিচ্যুত করা, তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে তেল আমদানির সময় ডলার মূল্যের কারসাজিতে ৩৫৬ কোটি ৩ লাখ টাকা হেরফেরের অভিযোগের তদন্ত এখনও শুরু হয়নি। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসে।
এফএইচ/এমআরএম