উত্তর আফগানিস্তানে একটি সোনারখনি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও খনিশ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের এক কর্মকর্তা। তবে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, এই সহিংসতায় একাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আফগানিস্তানের খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুমায়ুন আফগান বলেন, তাখার প্রদেশের চাহ আব জেলায় একটি স্বর্ণখনি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তে মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল তাখারে পাঠানো হয়েছে।
তবে ওই কর্মকর্তা চাহ আব জেলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না বা ঠিক কবে সহিংসতা শুরু হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। তাজিকিস্তান সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এই জেলাটিতে সম্প্রতি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকার এক বাসিন্দা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্য প্রদেশ থেকে আসা খনিশ্রমিকদের দ্বারা স্থানীয়দের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল। তিনি জানান,যে জায়গাটি স্থানীয় মানুষের পানির উৎস ছিল, খনিশ্রমিকরা সেটি ধ্বংস করে দেয়। এরপরই সহিংসতা শুরু হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা পাথর ও লাঠি নিয়ে খনিশ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তিনি দাবি করেন, এই সংঘর্ষে একাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং পরে খনিশ্রমিকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
সোনার পাশাপাশি আফগানিস্তানে মার্বেল, বিভিন্ন খনিজ, রত্নপাথর ও কয়লাও উত্তোলন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের ২০১০ ও ২০১৩ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, আফগানিস্তানের পাহাড়ি ভূগর্ভে থাকা সম্পদের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার।
বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তালেবান সরকার দেশটির নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে এবং ভূগর্ভস্থ সম্পদ কাজে লাগিয়ে রাজস্ব আদায়ের জন্য দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম