আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেউ যুদ্ধে জড়াবে না: ট্রাম্পের সহকারী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রভাবশালী সহকারী স্টিফেন মিলার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেউ যুদ্ধে জড়াবে না। তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটো ও আর্কটিক অঞ্চল সুরক্ষার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত।

স্টিফেন মিলার ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকে হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন মিলার। সেখা ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র বাতিল করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ যুদ্ধ করবে না।

তিনি আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত, এটাই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক কোন অধিকারে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে? গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের উপনিবেশ হিসেবে দাবি করার ক্ষেত্রে তাদের ভিত্তি কী?

ট্রাম্পের এই শীর্ষ সহকারীর মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রই ন্যাটোর শক্তি। তার ভাষায়, আর্কটিক অঞ্চল সুরক্ষিত করা, ন্যাটো এবং ন্যাটোর স্বার্থ রক্ষা ও প্রতিরক্ষার জন্য স্পষ্টতই গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত।

এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তার এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে তা ন্যাটোর সমাপ্তি ডেকে আনবে।

ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইউরোপের ছয়টি মিত্র দেশ এক যৌথ বিবৃতি দেয়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতাদের দেওয়া ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই কেবল তাদের পারস্পরিক সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আর্কটিক নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও সমানভাবে আগ্রহী। তবে তা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে, যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘সম্মিলিতভাবে’ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা; বিশেষ করে, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অখণ্ডতা সমুন্নত রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

ন্যাটো একটি ট্রান্স-আটলান্টিক সামরিক জোট, যেখানে কোনো সদস্য দেশ বাইরের আক্রমণের শিকার হলে অন্য সদস্যরা তাকে সহায়তা করার কথা।

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই আলোচনা নতুন করে সামনে আসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযানের পর ট্রাম্প বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ‘পরিচালনা’ করবে। এছাড়া তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ১৮২৩ সালের একটি নীতিতে ফিরে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব বলয় নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি কয়েকটি দেশকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তাদের দিকেও মনোযোগ দিতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপের পর স্টিফেন মিলারের স্ত্রী ক্যাটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রং ব্যবহার করা হয়। সেই পোস্টের পাশে লেখা ছিল ‘শিগগিরই’।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, প্রতিরক্ষা গুরুত্ব ও বিপুল খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে এই দাবি করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে, যা ডেনমার্কে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা পাবে। কারণ, আর্কটিক অঞ্চলে এর কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল খনিজ সম্পদ রয়েছে। এমনকি, এই দ্বীপ দখলের জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের হাতে রয়েছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চান, তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে- যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে ব্যাপক ও দৃঢ় বিরোধিতা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ