নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন একজন সম্পদশালী ব্যক্তি। তার কাছে নগদ আছে এক কোটি তিন লাখ ৩২ হাজার ৯৫৪ টাকা। তবে বিপরীত অবস্থা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর। অধ্যক্ষ মো. ছাইফ উল্যাহর কাছে নগদ চার লাখ ৭৯ হাজার ৭১ টাকা থাকলেও তিনি ৩১ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত আছেন।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অধ্যক্ষ মো. ছাইফ উল্যাহর জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ব্যারিস্টার অ্যাট ল পাস করা আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বছরে আয় এক কোটি ১৩ লাখ ছয় হাজার ১২৮ টাকা এবং কামিল পাস করা শিক্ষক অধ্যক্ষ ছাইফ উল্যাহর বছরে আয় ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৪ টাকা।
সম্পদের দিক দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকনের অস্থাবর দুই কোটি তিন লাখ ৪৮ হাজার ৭০৪ টাকার এবং স্থাবর পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮২ টাকার সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে ছাইফ উল্যাহর অস্থাবর ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৩১৩ টাকার এবং ৭৩ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
বছরে আয়ের মধ্যে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ভাড়া পান ১৫ লাখ ১৯ হাজার ৩২৮ টাকা এবং আইন পেশা থেকে বছরে অর্জন করেন ৯৭ লাখ ২৮৬ হাজার ৮০০ টাকা।
অন্যদিকে অধ্যক্ষ ছাইফ উল্যাহ বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বছরে ভাড়া পান দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা, শেয়ার-বন্ড থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং শিক্ষকতা পেশা থেকে বছর ছয় লাখ ৬ হাজার ৫৭৪ টাকা অর্জন করেন।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের কোথাও কোনো দায়-দেনা নেই। তবে ছাইফ উল্যাহর হাউজ ঋণ ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা এবং আত্মীয়-স্বজন থেকে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ঋণ নিয়েছেন আরও ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৯০২ টাকা।
খোকন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তার বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ছাইফ উল্যাহ চাটখিলের কড়িহাটি ছালেমিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এবং নোয়াখালী জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। তার বিরুদ্ধেও ছয়টি মামলা রয়েছে।
এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সোনাইমুড়ী উপজেলার নয়াহাট এলাকার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও মায়ের নাম রওশন আরা বেগম। ছাইফ উল্যাহ চাটখিল উপজেলার চাটখিল গ্রামর বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মোবারক উল্যাহ এবং মায়ের নাম মৃত ছিদ্দিয়া খাতুন।
নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ছাড়াও আরও পাঁচ দলের প্রার্থী রয়েছে। তারা হলেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মশিউর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) রেহানা বেগম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম।
এ আসনে ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ভোটার চার লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৬ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ১৮ হাজার ৬৫৯ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪১টি।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এমএস