অর্থনীতি

ঢাকায় বিলাসবহুল সার্কিট হাউজ নির্মাণে পুনরায় দরপত্রের সিদ্ধান্ত

সৌনা কক্ষ, জ্যাকুজি, সাধারণ স্টিমসহ নানা ধরনের বাষ্প গোসলের (স্টিম বাথ) ব্যবস্থার পাশাপাশি পাঁচতারকা মানের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রেখে ঢাকায় বিলাসবহুল সার্কিট হাউজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তবে এই প্রকল্পের দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীর বেইলি রোডের পুরোনো সার্কিট হাউজের জায়গায় এই সার্কিট হাউজ নির্মাণের জন্য ‘ঢাকা জেলায় বিদ্যমান সার্কিট হাউজ ভবনের স্থলে নতুন অত্যাধুনিক সার্কিট হাউজ ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদিত হয় ২০২৪ সালের ৯ মে। এর মেয়াদ ধরা হয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউ-২ এর আওতায় নির্মাণকাজের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে চারটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। দরপত্রের সকল প্রক্রিয়া শেষে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাংলা বিল্ডার্স লিমিটেড ও পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২ কোটি ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৬ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব টিইসি সুপারিশ করে।

কিন্তু দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া এই ক্রয় প্রস্তাবে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় সুইমিংপুল নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু সুইমিংপুল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা যথার্থ নয়, বলে মনে করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য ক্রয় প্রস্তাবটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

২০২৪ সালের একনেক সভায় উপস্থান করা এই প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা সরকারি কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রীয় অতিথিদের সাময়িক রাত্রিযাপনের জন্য ভবনটি ব্যবহৃত হবে। সার্কিট হাউজ ভবেনর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানি পণ্য। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সার্কিট হাউজটি নির্মাণ করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

এই সার্কিট হাউজে দুটি বেজমেন্টসহ একটি ১৩ তলা ও আরেকটি ৮ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। সার্কিট হাউজ ভবনে জ্যাকুজি স্থাপনে খরচ হবে ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া উষ্ণ বাষ্প গোসলের জন্য সৌনা রুম এবং স্টিম বাথের জন্য খরচ হবে ১৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রীয় ভিভিআইপি অতিথিদের শারীরিক প্রশান্তি ও বাষ্প গোসলের জন্য খরচ হবে ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সার্কিট হাউজের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক সব পণ্য। যেসব পণ্য দিয়ে সার্কিট হাউজ ভবনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা করা হবে, সেগুলো হবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জাপানের। অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় খরচ হবে ১৭ কোটি টাকা। এছাড়া সুইমিংপুল বাবদ খরচ হবে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। দুটি ভবন নির্মাণে খরচ হবে ২৩৯ কোটি টাকা। একটি গার্ড রুম নির্মাণে খরচ ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া এসি, লিফট, বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, সুয়্যারেজ সিস্টেম, জেনারেটর এবং বিদ্যুৎ বাবদ বাকি টাকা খরচ হবে।

এই সার্কিট হাউজ নির্মাণের বিষয়ে সে সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঢাকায় আসতে হয়। তাদের সাময়িক রাত্রিযাপনের জন্য ঢাকা জেলা সার্কিট হাউজটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিদ্যমান সার্কিট হাউজটি অনেক পুরোনো হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী স্থান সংকুলান সম্ভব হয় না এবং পুরোনো সার্কিট হাউজটিতে তেমন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই। এছাড়া রাষ্ট্রের ভিভিআইপি অতিথিদের রাত্রিযাপনের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত রেস্টহাউজ নেই। তাই কর্মকর্তাদের ঢাকায় সাময়িক আবাসন সুবিধা বাড়ানোর জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন সার্কিট হাউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমএএস/বিএ/এমএস