চাঁদপুরের ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত মতলব সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন গাড়িচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সেতুর মাঝখানের অংশে ফাঁকা জায়গা বড় হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত হয় এই মতলব সেতু। সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই প্রায় প্রতি বছর সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের বালুমাটি ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এবারও ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে চলছে সংস্কার কাজ।
এরই মধ্যে সারাদেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সেতুর ৭টি স্প্যানের মধ্যে মাঝখানের দু’টি স্প্যানের এক্সপানশন জয়েন্টের ওপর থেকে বিটুমিন খসে পড়ে। এতে জায়গাটি ফাটলের মতো আকৃতি ধারণ করে। বিষয়টি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক্সপানশন জয়েন্টে ফাঁকা স্থান তৈরি হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংস্কার কাজ না করায় সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের গোড়ার দিকে মাটি ও বালু সরে গিয়ে বারবার বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, সেতুর মাঝখানে ফাঁকা জায়গা দেখে ভয় লাগে। ভারী গাড়ি গেলে কাঁপে। আগে ফাটল জায়গা ছোট ছিল, কিন্তু এখন ফাঁকা জায়গা বড় হয়ে গেছে। দ্রুত ঠিক না করলে বড় দুর্ঘটনা হতে পারে।
সিএনজিচালক সফিক হোসেন বলেন, ভূমিকম্প হওয়ার পর থেকে সেতুর মাঝখানে ফাটল তৈরি হয়। আগে ছোট থাকলেও এখন বড়। ভারী যানবাহন গেলে কেঁপে ওঠে। আমরা ভয়ে ভয়ে এখন গাড়ি চালাই। অনেক দিন হয়ে গেছে কিন্তু এখনো সেতু মেরামত করছে না।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, এটি কোনো কাঠামোগত ফাটল নয়। সেতু নির্মাণের নিয়ম অনুযায়ী দুটি স্প্যানের মাঝখানে এক্সপানশন জয়েন্ট রাখা হয়। তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে এই ফাঁকা জায়গা ছোট বা বড় হতে পারে, যা শীতকালে বেশি দৃশ্যমান হয়। এক্সপার্ট টিম পরিদর্শন করেছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরীফুল ইসলাম/এফএ/এমএস