দেশজুড়ে

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় বিএনপি প্রার্থী, দুশ্চিন্তায় নেতাকর্মীরা

শেরপুর দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আইনি সুরাহা না হলে এই আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মনোনয়নপত্র বাছাই কমিটির সভাপতি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। ফাহিম চৌধুরীর দাখিল করা মনোনয়নপত্রে অসংগতি থাকায় তা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে। প্রার্থী চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে বিএনপির আরও হেভিওয়েট ৫ জন নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে মনোনয়ন পান সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহিদ আলী চৌধুরীর ছেলে ফাহিম চৌধুরী। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফজলুর রহমান তারা, প্রভাষক নূরুল ইসলাম ও দুলাল চৌধুরী সরে দাঁড়ান। তবে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইলিয়াস খান বিএনপির প্রার্থী দাবি করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু দলের চিঠি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিএনপির কর্মী সমর্থকরা বলছেন, আমরা জাহেদ আলী চৌধুরীকে ভোট দিয়েছিলাম। এরপর আর ভোট দিতে পারেনি। ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পলায়নের পর এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার একটা সুযোগ এসেছে। কিন্তু আসনটি দলের প্রার্থীশূন্য হয়ে যাচ্ছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগড় ইউনিয়নের রাজনগরের বাসিন্দা সোহরাব উদ্দিন বলেন, যদি ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ না হয়, তবে জামায়াতের প্রার্থী এ আসনে সম্ভবত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন।

নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চন্দ্রকোনা বাজারের ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, আমরা জাহেদ আলী চৌধুরীর লোক। খেয়ে না খেয়ে উনার নির্বাচন করেছি। দীর্ঘ চারটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার ফাহিম চৌধুরীকে ভোট দিব এবং তার জন্য নির্বাচনি কাজও করছি। কিন্তু সে তার কাগজপত্র আগেভাগেই প্রস্তুত রাখলেন না কেন? যদি আগেভাগেই সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতেন তাহলে এই দু টানায় ভুগতে হতো না। আমরা এখনো হতাশার মধ্যেই আছি।

জামায়াতের একাধিক নেতা বলেন, আমাদের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপির লোকজন ফুরফুরে রয়েছেন। আমরা ইসির বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণ ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরি জানান, তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। কিন্তু বড়োদিন ও খ্রিষ্টীয় নববর্ষের ছুটির কারণে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস বন্ধ থাকায় সময়মতো একনলেজমেন্ট স্লিপ (প্রাপ্তি স্বীকারপত্র) হাতে পাননি। শিগ্‌গিরই পেয়ে তা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফেরত পাবেন।

জেলা বিএনপি নেতা ভিপি আনোয়ার হোসেন বলেন, দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর গত ২৪ ডিসেম্বর ফাহিম চৌধুরী ফরম পূরণ করে ডলার জমা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেন। দ্রুতই সব পেপারস হাতে পেয়ে যাবো আমরা, একই সঙ্গে প্রার্থিতা ফেরত পাবো। তবে প্রতিপক্ষ একটা গ্রুপ বিভিন্ন অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

নকলা-নালিতাবাড়ী আসনের জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমরা ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী ভাইকে মাঠে চাই। আইনের ছাত্র হিসেবে আমি মনে করি, ফাহিম ভাইয়ের জন্য প্রার্থিতা ফেরত আসা খুব কঠিন।

শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীর সব পেপারস খুব দ্রুত এসে যাবে। আমরা প্রার্থিতা ফেরত পাবো।

মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/এমএস