রাজশাহীর পবা উপজেলার মল্লিকপুর রনহাট কুখন্ডি কলেজকে (এমআরকে) ১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এরিয়ার প্রদান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান ও তৎকালীন সহকারী পরিচালক আলমাছ উদ্দিন গোপন যোগসাজশে এসব অর্থ প্রদান করেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা সেটি আটকে দেয়। এরপর দপ্তরটির আইন শাখা বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (আইন-২) আল আমিন সরকার ও গবেষণা কর্মকর্তা (আইন) জাকির হোসেনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (আইন-২) আল আমিন সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, এমআরকে কলেজ ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এমপিও কোড পায়নি। পরে হাইকোর্টের ১২০১/২০২১ রিটের আদেশের মাধ্যমে তারা এমপিওভুক্তির জন্য আদেশনামা পায়। কিন্তু বর্তমান এমপিওভুক্তির পদ্ধতি অনুসরণ না করেই রাজশাহীর মাউশি আঞ্চলিক কার্যালয় তাদের এমপিওভুক্তি প্রদান করে। সেইসঙ্গে তাদের ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এরিয়ারও প্রদান করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন এবং বিধিবহির্ভূত।
বিধি অনুযায়ী, আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ ছয় বছরের মধ্যে এরিয়ার বিল দিতে পারে এবং ১৫ বছরের মধ্যে এরিয়ার বিল নিতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা থেকে অনুমতি নিতে হয়। অর্থাৎ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এই বিল গ্রহণ করতে হয়। ১৫ বছরের বেশি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এরিয়ার বিল গ্রহণ করতে হয়। তবে এসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে ২১ বছরের এই বিল গ্রহণ করা হয়েছে জানা গেছে।
সূত্র মতে, রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক প্রফেসর আসাদুজ্জামানের নামে একটি তদন্ত কার্যক্রম এরই মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যার প্রধান রাজশাহী কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী এবং মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক প্রফেসর শহিদুল ইসলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এসব তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
জানতে চাইলে এমআরকে কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলী বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলাম। রাজশাহী অফিস থেকে সেই টাকার অনুমোদনও দিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এরপর সেই টাকা আমরা পাইনি। এরপর আমরা ডিজিতে যোগাযোগ করি। তারা জানায় এটি সঠিক হয়নি।
তারা বলেছেন, উনারা তদন্তে আসবেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সঠিক পেলে প্রদান করবেন। এই মাসেই তারা আসবেন বলেও জানান তিনি।
মাউশির পরিচালক প্রফেসর আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে তারা হাইকোর্টের রায়সহ আবেদন করে। এরপর মাউশি থেকে চিঠি আসে। সব নিয়ম মেনেই আমরা এটি মঞ্জুর করি। তবে মাউশি থেকে বড় অ্যামাউন্ট দেখে স্থগিতের জন্য চিঠি দিতে বলে। এরপর সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র চেক করতে তদন্ত কমিটিও হয়েছে। আশা করছি তারা এটি পেয়ে যাবে, বিল নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (আইন-২) আল আমিন সরকার বলেন, এমপিও পেমেন্টের সময় এটি ধরা পড়ে। এরপর এটি স্থগিত রাখা হয়েছে। এই নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। তবে শীতের কারণে সেটি বিলম্ব হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর এবিএম আব্দুল হান্নানকে তার অফিসের নম্বরে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
সাখাওয়াত হোসেন/এফএ/এএসএম