জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দল অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের পরিষ্কার করতে হবে তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে। অর্থাৎ সংস্কারের পক্ষে নাকি বিপক্ষে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সুজনের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজনের সহ সভাপতি ও সাবেক বিচারপতি আব্দুল মতিন। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন।
গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে ‘গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?’ শীর্ষক একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। উপস্থাপনের শুরুতেই তিনি গণভোটের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন।
এরপর গণভোট আসলে কী, সেই বিষয়ে ধারণা দেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট কেন প্রয়োজন সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রণীত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যাতে দেশে বিদ্যমান সক্রিয় প্রায় সব দল সই করেছে। যেহেতু সংবিধান হলো ‘উইল অব দ্য পিপল’ বা জনগণের চরম অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি, তাই জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে জনগণের সম্মতি বা গণভোট আয়োজন করা প্রয়োজন। এটাই গণভোট।
এরপর তিনি গণভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট বিষয়ে ৪টি প্রশ্নের ব্যাপারে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করেন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বদিউল আলম দেখান, গণভোটের ১নং প্রশ্নে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ, ন্যায়পাল নিয়োগ, সরকারি কর্মকমিশনে নিয়োগসহ ৬ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২নং প্রশ্নে আইনসভা গঠন, উচ্চকক্ষ গঠনসহ ৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ৩নং প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদসহ ৩০টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও ৪নং প্রশ্নে ভাষা, নাগরিকদের পরিচয়, সংবিধান সংশোধনসহ ৮টি বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
আরও পড়ুনএবারের নির্বাচনটা হবে লাইনচ্যুত ট্রেনকে ফের লাইনে তোলামব সন্ত্রাসে দেড় বছরে নিহত ২৮০
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তারা এ ব্যাপারে অঙ্গীকার প্রদান করেছেন এবং সই করেছেন। তাদের এখান থেকে বেছে বেছে বাস্তবায়ন করার কোনো সুযোগ নেই। দলগুলোকে অবশ্যই তারা ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে সেটা পরিষ্কার করতে হবে।
সবশেষে সুজনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কিছু প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। বদিউল আলম বলেন, নাগরিক হিসেবে আমরা আশা করি যে, রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে তাদের অঙ্গীকারগুলো পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করবে। তাদের কাছ থেকে অস্পষ্টতা বা বেছে বেছে গ্রহণযোগ্যতা আর গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই স্পষ্টতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। জুলাই জাতীয় সনদ জনগণের রাজপথের আন্দোলন, বিপুল আত্মত্যাগ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনাপ্রসূত হতাশার বিপরীতে রাজপথের ঐক্যের প্রতীক হয়ে জন্ম নেওয়া একটি সামাজিক চুক্তি। এর প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকার ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনাগুলো রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। তাই, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ৪৮টি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর ওপর আসন্ন গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোট দিতে আহ্বান করবে তা রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট করতে হবে। এছাড়া জুলাই সনদের অন্য ৩৬টি সংস্কার প্রস্তাব যেগুলো আইন বা বিধি কিংবা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করা যাবে, সেগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারেও দলগুলোকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
এমএইচএ/কেএসআর/এএসএম