দেশজুড়ে

জুলাইয়ে মৃত্যু, ১৮ মাস পর মরদেহ উত্তোলন

নোয়াখালীর চাটখিলে দেড় বছর পর জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত মো. ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজের (২২) মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেনের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থান থেকে এ মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজ চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ারী মিয়া ব্যাপারী বাড়ির মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চাটখিল থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় থানায় ঢুকে একটি অস্ত্র লুট করে মোটরসাইকেলে করে স্থান ত্যাগ করার সময় পথিমধ্যে গুলিবিদ্ধ হন ইমতিয়াজ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তার মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের দাবি, থানার অস্ত্র লুটে আত্মঘাতী নয়, অজ্ঞাত ব্যক্তির গুলিতে ইমতিয়াজ নিহত হন।

পরে ইমতিয়াজকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ও জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন।

গত ২২ মে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পলাতক আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এইচএম ইব্রাহিম, সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তের প্রয়োজনে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ইমতিয়াজকে শহীদের স্বীকৃতি ও ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তাকে গেজেটভুক্ত শহীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চাটখিল উপজেলার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ে ইমতিয়াজের নাম আন্দোলনের কোথাও পাওয়া যায়নি। তারপরও কীভাবে তিনি শহীদ হিসেবে গেজেটভুক্ত হলেন সেটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দরকার।

আরেক শিক্ষার্থী গোলাপ হোসেন ফরহাদ বলেন, ইমতিয়াজের মৃত্যুকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে দেখিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত শহীদদের অবমাননা হয়েছে।

ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমান দাবি করেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করায় বর্তমানে আমাদের সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা বন্ধ রয়েছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে দেহাবশেষ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় কেবল হাড়গোড় ও খুলি পাওয়া গেছে। যা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

মরদেহ উত্তোলনের সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাটখিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/জেআইএম