টয়লেট আপনার বাড়ির সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোর একটি, আবার জীবাণু ছড়ানোর প্রধান উৎসও এটি। হয়তো ভাবছেন আপনার টয়লেট তো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়।
কিন্তু নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও অনেক সময় অজান্তেই কিছু ভুল থেকে যায়, যার কারণে টয়লেট দেখতে পরিষ্কার লাগলেও জীবাণু ছড়াতে পারে। জেনে নিন কোন ভুলগুলো আপনার পরিশ্রমের ফল নষ্ট করে দিতে পারে।
১. একই স্পঞ্জ বা ব্রাশ ব্যবহার করা
এটি প্রথম ও সবচেয়ে বড় ভুল — একটি কাপড়, স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে টয়লেট বা ওয়াশরুমের একাধিক জায়গা পরিষ্কার করা। কমোডের টয়লেট সিট পরিষ্কারের পর সেই একই কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে বেসিন বা টাইলস মুছলে জীবাণু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিষ্কারের বদলে উল্টো ঝুঁকি বাড়ে। তাই টয়লেট, বেসিন ও মেঝের জন্য আলাদা আলাদা স্পঞ্জ বা ব্রাশ ব্যবহার করা জরুরি।
২. হাতলগুলোর কথা ভুলে যাওয়া
আরেকটি প্রচলিত ভুল হলো, যেসব জায়গা আমরা সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করি, সেগুলো পরিষ্কার করতে ভুলে যাওয়া। লাইট সুইচ, দরজার হাতল, ফ্লাশের বোতাম, কলের হাতল — এসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমে। কিন্তু চোখে ময়লা দেখায় না বলে অনেকেই এগুলো এড়িয়ে যান। অথচ নিয়মিত এসব জায়গা জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে না ফেললে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।
৩. ছোট ছোট কোণাগুলো এড়িয়ে যাওয়া
বাথরুমে থাকা কিছু লুকানো জায়গাও পরিষ্কার করার সময় অবহেলার শিকার হয়। কাপড় রাখার র্যাকের গোড়া, শাওয়ার কার্টনের ভাঁজ, শ্যাম্পু বা সাবানের বোতলের নিচে, টয়লেট সিটের পেছনের দিক — এসব জায়গায় ধীরে ধীরে ছত্রাক ও ময়লা জমতে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কারের সময় এসব জায়গা আলাদা করে নজরে না আনলে বাথরুম কখনোই পুরোপুরি পরিষ্কার থাকে না।
৪. বেশি বেশি কড়া ক্লিনার ব্যবহার করা
অনেকেই মনে করেন, যত বেশি ক্লিনার ব্যবহার করা যাবে, পরিষ্কার তত ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ক্লিনিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে। একাধিক শক্তিশালী ক্লিনার একসঙ্গে ব্যবহার করলে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হতে পারে, যা শ্বাসযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আবার নিয়মিত অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারে টাইলস বা ফিটিংস নষ্টও হতে পারে। তাই প্রতিটি প্রোডাক্টের নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
৫. অনিয়মিত পরিষ্কার
নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়া পরিষ্কার করাও একটি সমস্যা। অনেকেই মাসে একদিন ডিপ ক্লিনিং করেন, তারপর দীর্ঘদিন আর মেইনটেইন করেন না। এতে ময়লা জমে শক্ত হয়ে যায় এবং পরিষ্কার করাও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাথরুম পরিষ্কারকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক — এই তিন ভাগে ভাগ করলে কাজ সহজ হয়। প্রতিদিন দ্রুত মুছে নেওয়া, সপ্তাহে একদিন সবগুলো সারফেস পরিষ্কার করা আর মাসে একবার ডিপ ক্লিনিং করলেই বাথরুম স্বাস্থ্যসম্মত থাকে।
সূত্র: সাউদার্ন লিভিং
এএমপি/এমএস