রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অনুমোদনবিহীন মাদক সিসা ও সিসা লাউঞ্জ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি (মহাপরিদর্শক), র্যাব (ডিজি) মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় রাত গভীর হলে জমে ওঠে গোপন আড্ডা। বাইরে থেকে ক্যাফে বা লাউঞ্জ মনে হলেও ভেতরে এগুলো রূপ নেয় সিসা বারে। সেখানে তামাকজাত সিসার সঙ্গে ব্যবহার হয় নানান ধরনের মাদক। অনেক জায়গায় চলে অনৈতিক কার্যক্রমও। অথচ দেশে সিসা বার পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমতি নেই। আইন স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা দিলেও কার্যকর তদারকির অভাবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলেছে এ সংস্কৃতি।
আরও পড়ুনপাবনা-১ ও ২ আসনে ভোটের কার্যক্রম বন্ধরামপুরায় একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ
সম্প্রতি বনানীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই অবৈধ ব্যবসার চিত্র আরও স্পষ্ট করেছে। ‘৩৬০ ডিগ্রি’ নামের একটি সিসা বার থেকে বের হয়ে খুন হন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রাহাত হোসেন রাব্বি (৩১)।
তদন্তে জানা গেছে, এর আগেও ওই স্থানে ‘এরাবিয়ান কজি’ নামে সিসা বার চালু ছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তা বন্ধ হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ নাম পাল্টে আবারও একই ধরনের ব্যবসা শুরু করে। অভিযানের পরও এভাবে বারবার গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশে সিসা বা হুক্কা কোনোভাবেই বৈধ নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে অনুমতি দেয় না। তবুও রাজধানীতে একশর বেশি সিসা বার চালু আছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০টি তরুণ-তরুণীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ আসর। উচ্চ শব্দে বাজে সংগীত, ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকে অ্যালকোহলের গন্ধ।
অনেক সময় সিসার সঙ্গে মেশানো হয় ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল কিংবা লিকুইড কোকেন। শুধু মাদক নয়, রাজধানীর অনেক সিসা বারে তৈরি করা হয়েছে আলাদা কেবিন। বাইরে থেকে সাধারণ বসার জায়গার মতো মনে হলেও ভেতরে থাকে সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ। নির্দিষ্ট গ্রাহকরাই সেখানে প্রবেশাধিকার পান। ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়া নিয়ে কেবিনে সরবরাহ করা হয় সিসা, অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদক। এর সঙ্গে চলে যৌন কার্যক্রমও।
এফএইচ/কেএসআর/জেআইএম