জাতীয়

অবৈধ সম্পদ অর্জন, সাবেক এমপি ফাহমীর ধানমন্ডির ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আগেই এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

ফাহমী ময়মনসিংহ-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দুদকের আবেদনে বলা হয়, তদন্ত চলাকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে আসামি তার নামে থাকা স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।

দুদক জানায়, সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে ফাহমী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ২০ কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। পাশাপাশি তার নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক হিসাবে ৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৬ মার্কিন ডলার অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।

আদালতের আদেশে যে স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে- ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার রোড নম্বর ৫-এর একটি বহুতল ভবনের অষ্টমতলায় অবস্থিত প্রায় তিন হাজার ৪৩৪ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট ও দুটি কার পার্কিং। ফ্ল্যাটটির বাজারমূল্য প্রায় আট কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

দুদক বলেছে, তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আসামি তার সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা লুকানোর চেষ্টা করছেন। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে সম্পদ জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।

আদালতের জব্দ আদেশ কার্যকরের জন্য জেলা রেজিস্ট্রার (ঢাকা ও ময়মনসিংহ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এমডিএএ/একিউএফ/এএসএম