লাইফস্টাইল

দাঁতে সেফটি পিন চেপে ধরার অভ্যাসে বিপদ হতে পারে

 

দাঁতে সেফটি পিন চেপে ধরাএই অভ্যাসটি অনেকের কাছেই খুব পরিচিত। শাড়ির আঁচল ঠিক করা, ব্লাউজে পিন লাগানো, হিজাবে পিন পরা বা তাড়াহুড়ায় হাতে কিছু ধরে রাখার সুযোগ না থাকলে অনেকেই অজান্তেই সেফটি পিন মুখে পুরে নেন। বিশেষ করে সেলাইয়ের সময় বা পোশাক পরার মুহূর্তে এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই সামান্য অভ্যাসটি যে বড় বিপদের কারণ হতে পারে, তা অনেকেই ভেবে দেখেন না।

সেফটি পিন দেখতে ছোট ও নিরীহ মনে হলেও এটি একটি ধাতব, ধারালো বস্তু। দাঁতে চেপে ধরলে সামান্য অসতর্কতায় পিনটি সরে গিয়ে মুখের ভেতরের নরম অংশে আঘাত করতে পারে। জিভ, মাড়ি বা ঠোঁট কেটে যাওয়ার ঝুঁকি তো থাকেই, এমনকি মুখের ভেতরে গভীর ক্ষতও তৈরি হতে পারে। অনেক সময় এই ধরনের ক্ষত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, কারণ মুখের ভেতরে সবসময় ব্যাকটেরিয়া থাকে।

এর চেয়েও বড় বিপদ হলো, হঠাৎ হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় সেফটি পিনটি গলা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। তখন তা শ্বাসনালী বা খাদ্যনালীতে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা এমনকি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে। চিকিৎসকেরা জানান, এ ধরনের দুর্ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি ঘটে অসতর্কতার কারণে।

দাঁতের দিক থেকেও এই অভ্যাস ক্ষতিকর। শক্ত ধাতব পিন দাঁতে চেপে ধরলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে বা মাইক্রো ক্র্যাক তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে দাঁত দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যাদের দাঁতে ফিলিং, ক্রাউন বা ব্রেস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

যা করবেন নাহাত খালি রাখার জন্য মুখে পিন ধরে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ-এই অভ্যাস একেবারেই করা উচিত নয়।

খেতে খেতে, কথা বলতে বলতে বা হাসি-ঠাট্টার মাঝেও কখনো পিন ব্যবহার করবেন না। হাঁচি বা কাশির সময় পিন হঠাৎ শ্বাসনালীতে ঢুকে যেতে পারে।

খোলা পিন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখবেন না। এতে অন্য কেউ ভুলবশত পায়ে চাপলে বা হাতে ধরলে গুরুতর আঘাত পেতে পারে।

দুর্ঘটনা ঘটলে যা করবেনযদি কোনোভাবে সেফটি পিন বা ধারালো বস্তু মুখ বা গলায় চলে যায়, সবার আগে শান্ত থাকা জরুরি। ভয় পেলে বা দৌড়ঝাঁপ করলে বস্তুটি আরও গভীরে চলে যেতে পারে।

কাশি এলে তা চেপে রাখবেন না। অনেক সময় কাশির চাপে বস্তুটি উপরে উঠে আসতে পারে। বমি ভাব হলে তাতেও বাধা দেবেন না।এই অবস্থায় পানি খাবেন না, বিশেষ করে বস্তুটি ধারালো হলে। এতে তা আরও নিচে নেমে গিয়ে ক্ষতি করতে পারে।আঙুল ঢুকিয়ে খোঁচাখুঁচি করার চেষ্টা করবেন না। এতে বস্তুটি আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে।

শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, বুক ব্যথা শুরু হলে বা কাশি বাড়তে থাকলে এক মুহূর্ত দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালে যান। প্রয়োজনে এক্স-রে বা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়-চিকিৎসকের পরামর্শই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাশনের ছোট্ এই সহায়ক জিনিসটি ব্যবহার করতে গিয়ে তাই একটু সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সেফটি পিন হাতে না থাকলে মুখে না রেখে সাময়িকভাবে কাপড়ে গেঁথে রাখা বা ছোট কোনো বাক্সে রেখে দেওয়াই নিরাপদ। দৈনন্দিন জীবনের এই ছোট অভ্যাস বদলালেই এড়ানো সম্ভব বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুন: স্বাভাবিক আবহাওয়াতেও শীত লাগছে কেন? জানুন কারণ শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকার না ক্ষতি? 

এসএকেওয়াই/