দেশজুড়ে

সাত বন্ধুর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘রস বাগিচা’

ইট-পাথরের শহরে খেজুর রস যেন এক দুর্লভ, বিলাসী স্বাদ। নারায়ণের ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে খেজুর গাছ। তবে এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার একদল যুবক। সেই সঙ্গে তারা অনেকটা সফলও হয়েছেন।

বন্দরের কবিলার মোড় এলাকায় সাত বন্ধু মিলে ‘রস বাগিচা’ নামে খেজুর গাছের পরিচর্যা করে প্রতিদিন সকালে নামাচ্ছে টাটকা খেজুরের রস। প্রথমে তারা ৪৬টি গাছ দিয়ে শুরু করলেও এবছর তারা ৭০টি গাছ থেকে রস নামাচ্ছেন। প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে ২০০ লিটার রস তারা সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন সকালে দূর-দূরান্ত মানুষজন এসে বাগানে ভিড় করছেন। অনেক সময় মানুষজনের ভিড় সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।

রস বাগিচার গাছি সেলিম বলেন, প্রায় প্রতিদিন দেড়শত লিটারের ওপর রস সংগ্রহ করা যায়। আবার কোনো দিন ২০০ লিটার ছাড়িয়ে যায়। আমাদের এ বাগানের রসকে নিরাপদে রাখার জন্য জাল ব্যবহার করছি। হাড়ি ব্যবহার করছি। যাতে বাদুড় রস নষ্ট করতে না পারে। সর্বোপরি রসের মান পরিপূর্ণভাবে বজায় রাখার জন্য যা যা করণীয় সবই করছি।

রস বাগিচার একজন উদ্যোক্তা তাসমান আহমেদ বলেন, আমাদের এ রস বাগিচা নিয়ে কোনো আর্থিক লাভের চিন্তা করছি না। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শখের বসে এ বাগানটা পরিচর্যা করছি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন ছুটে আসেন। গাছি রস নামিয়ে তাদের খেতে দেন। এটা দেখে নিজেদের একটা প্রশান্তি কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, এলাকার মুরুব্বিদের কাছে শুনেছি আগে আমাদের বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছ ছিল। দিন দিন এসকল গাছ লোপ পাচ্ছে। তাই আমরা সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রস বাগিচা নামে খেজুর গাছ লিজ নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেই সঙ্গে সিজন শেষে কিছুটা লাভবান হচ্ছি।

রস বাগিচার প্রধান অ্যাডমিন জোবায়ের হোসেন নুর বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলাতে খেজুরের গাছ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু শহরাঞ্চল বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশ এলাকায় খেজুরের গাছ বিলুপ্তির পথে। তারপরও আমরা এখানে অনেকগুলো খেজুর গাছ পেয়েছি। যা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। আমরা এগুলো পরিচর্যা করে খেজুরের রস নামানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

তিনি আরও বলেন, শীতের সকালে খেজুরের গাছের নিচে এসে রস সংগ্রহ করা ও পান করা বিষয়টি ভাবতেই অন্যরকম লাগে। তাই আমরা চেয়েছিলাম আমাদের এ রস বাগিচার মাধ্যমে খেজুরের রসের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য। আশা করি সেই প্রচেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ. জা. মু. আহসান শহীদ সরকার বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে খেজুর গাছ এবং এর রস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নারায়ণগঞ্জে একসময় খেজুর গাছ লক্ষ্য করা গেলেও শিল্পায়ন ও আবাসনসহ বিভিন্ন কারণে এর সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। আমরা উৎসাহিত করছি পতিত জায়গায় ও রাস্তার পাশে খেজুর চারা রোপণে।

তিনি আরও বলেন, যারা খেজুরের রস নিয়ে কাজ করছেন তাদেরও আমরা উৎসাহিত করছি। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। তাদের যে কোনো সহযোগিতায় আমরা পাশে থাকবো।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/আরএইচ/জেআইএম