লাইফস্টাইল

শীতে খুসখুসে কাশি, ঠান্ডা লাগার সমস্যা নাকি দূষণের প্রভাব

শীতকালে অনেকেই খুসখুসে কাশির সমস্যায় ভোগেন। ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম পাওয়া গেলেও কাশি কিছুতেই কমে না। অনেকের ধারণা এটি শুধু ঠান্ডা লাগার কারণে, তাই তারা গুগল সার্চ করে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে ফেলেন। তবে কিছুদিন পর আবার কাশি ফিরে আসে।

এক্ষেত্রে মাথায় রাখা জরুরি, কাশি যে সবসময় ঠান্ডা বা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়, তা নয়। শীতে বেড়ে চলা বায়ুদূষণও কাশির একটি বড় কারণ হতে পারে।

দূষণের কারণে কাশিদূষণের কাশি সাধারণত শুষ্ক হয়। কখনো কখনো শ্বাস নিতে কষ্টও হয়। বাতাসে ধুলা, ধোঁয়া এবং রাসায়নিক কণার সরাসরি প্রভাবে শ্বাসনালির লিগামেন্ট ও টিস্যুতে প্রদাহ তৈরি হয়। ফলে কাশি দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে।

ভাইরাল সংক্রমণের কারণে কাশিভাইরাস সংক্রমণের কারণে সর্দি, ফ্লু বা অন্যান্য শ্বাসনালীর ভাইরাস হলে কাশির সঙ্গে জ্বর, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, ক্লান্তি বা সাইনাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কফ বা শ্লেষ্মা জমতেও পারে। বাতাসে দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে কাশিও বেড়ে যেতে পারে। শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা শ্বাস নিতে জ্বালার অনুভূতিও দেখা দিতে পারে।

উপসর্গ ও লক্ষণভেদে পার্থক্যদূষণের কারণে কাশি: শুষ্ক, ধীরে ধীরে বাড়ে, জ্বর নেই, দীর্ঘস্থায়ী, বাতাসে দূষণ বেশি হলে বাড়তে পারে।

ভাইরাল সংক্রমণের কারণে কাশি: কফসহ, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর, গলা ব্যথা, সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যে কমে যায়।

শীতে কাশির প্রকৃতি ও উপসর্গ খেয়াল রাখলে সহজেই বোঝা যায়, কোন কারণে কাশি হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

কাশি এড়াতে যা করবেনশীতকালে কাশি এড়াতে বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা, ধুলাময়লা এলাকা এড়িয়ে চলা, ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখা, গলা ঢেকে রাখা এবং উষ্ণ পানীয় বেশি পান করা কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি ভিটামিন সি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শীতের কাশিকে সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এর কারণ বোঝা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। সময়মতো প্রতিকার নিলে শ্বাসনালি সুস্থ রাখা সম্ভব।

সূত্র:মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান কেয়ার ফ্যামিলি

আরও পড়ুন: স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়  পিঠ চুলকে ঘণ্টায় আয় ১২ হাজার টাকা

এসএকেওয়াই/