জাতীয়

বসুন্ধরায় আবাসিক ভবনে ভেজাল মদের কারখানা, গ্রেফতার ৩

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের আড়ালে ভেজাল ও অবৈধ মদ উৎপাদনেএবং মজুতের একটি গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সেখানে অভিযান চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ, ভেজাল মদ তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধার করে ডিএনসি। একইসঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ।

গ্রেফতাররা হলেন- রিপন হিউবার্ট গোমেজ (৪৮), আবদুর রাজ্জাক (৪০), ডেনিস ডমিনিক পিরিছ (৩৭)।

মো. বশির আহমেদ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল মদ সরবরাহের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জোয়ার সাহারা এলাকায় দুটি ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি আবাসিক ভবনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ, ভেজাল মদ তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, অভিযানকালে ডিএনসি কর্মকর্তারা দেখতে পান, আবাসিক ফ্ল্যাটটির একাধিক কক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছিল ভেজাল মদ প্রস্তুত, বোতলজাত ও সংরক্ষণের জন্য। সেখানে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাত হচ্ছিল।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জোয়ার সাহারা এলাকায় আরও একটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মদের মজুত ও সরবরাহ সংক্রান্ত আলামত উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তিনজনকে আসামি করে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, উদ্ধার মদগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এসব ভেজাল মদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে সরবরাহের প্রস্তুতি ছিল।

অভিযানে ৭৯ বোতল বিদেশি মদ, ১৬৬ ক্যান বিয়ার ও ভেজাল মদ তৈরির ১৩২ লিটার কেমিক্যাল জব্দ করা হয়।

যেভাবে তৈরি হতো ভেজাল মদ

ডিএনসি জানায়, অভিযুক্ত চক্রটি ভারত থেকে অবৈধ পথে সংগৃহীত বিভিন্ন বিদেশি মদ ব্যবহার করে সেগুলোর ওপর তথাকথিত ‘টিউনিং’ করতো। তারা বিভিন্ন রাসায়নিক ও তরল পদার্থ মিশিয়ে মদের রং, গন্ধ ও মাত্রা পরিবর্তন করে নতুনভাবে বোতলজাত করতো, যেন সেগুলো উচ্চমূল্যের বিদেশি মদের মতো দেখায়। এ পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট অনুপাত বা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়নি।

ডিএনসি আরও জানায়, ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের মাত্রা সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এসব ভেজাল মদ সেবনে তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়া, লিভার ও কিডনি ক্ষতি, স্নায়বিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হওয়া সত্ত্বেও এসব ভেজাল মদ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং কোথায় কোথায় ভেজাল মদ সরবরাহ করা হতো, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কেআর/এএমএ/জেআইএম