আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল আলম। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায়, এই চিকিৎসক প্রার্থী ও তার স্ত্রীর নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ, স্থাবর সম্পদ, শেয়ার এবং আর্থিক বিনিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফরিদুল আলম বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি শেভরন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে তার স্ত্রী সুলতানা বাদশাজাদী একজন ব্যবসায়ী এবং মেট্রোপলিটন হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার।
আয়ের উৎস: চিকিৎসা পেশা ও বিনিয়োগহলফনামায় ফরিদুল আলমের বার্ষিক আয়ের উৎস হিসেবে চিকিৎসা পেশা থেকে আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পাশাপাশি শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্র থেকে তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৬ টাকা। অর্থাৎ তার মোট বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ আসে বিনিয়োগ খাত থেকে।
ফরিদুল আলমের নামে ব্যাংকে নগদ জমার কোনো হিসাব দেখানো হয়নি। তবে তার নামে ৪০ লাখ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ) থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার নগদ টাকার পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, ফরিদুল আলমের শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রের মোট মূল্য ১ কোটি ৯৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩১ টাকা। এটি তার মোট ঘোষিত সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
স্থাবর সম্পদ: জমি ও ভবনস্থাবর সম্পদের হিসেবে, ফরিদুল আলমের মালিকানায় রয়েছে ৫০ শতক অকৃষি জমি। এ জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার ১৩২ টাকা। এ ছাড়া পটিয়া উপজেলায় তার মালিকানায় থাকা একটি তিনতলা ভবনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
কর বিবরণী২০২৫-২৬ করবর্ষে ফরিদুল আলম মোট ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৬ টাকা আয় দেখিয়ে তার বিপরীতে ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৬ টাকা আয়কর দিয়েছেন। ওই করবর্ষে তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৫ টাকা।
স্ত্রীর সম্পদ ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগহলফনামায় ফরিদুল আলমের স্ত্রী সুলতানা বাদশাজাদীর সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তার নগদ টাকার পরিমাণ ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৩০৫ টাকা। ব্যাংকে জমা দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৭৯৪ টাকা, তবে তার নামে ৫০ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে।
ব্যবসায়িক সম্পদের মধ্যে সুলতানার রয়েছে ১৫ লাখ টাকার ব্যবসায়িক মূলধন। তিনি মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ারের মালিক। এ ছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে তার ৩ লাখ টাকার পুঁজি রয়েছে। তার নামে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭৮ টাকার একটি বীমা থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়।
স্ত্রীর আয় ও করসুলতানা বাদশাজাদীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭১ টাকা। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ১ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার ৯৭৭ টাকার সম্পদের বিপরীতে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৬৭ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
ফরিদুল আলমের হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের বড় অংশই নগদ অর্থ, জমি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এমআরএএইচ/এমএমকে/এএসএম