মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে টেটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ হানুয়ারি) উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্যে টেটাবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- শুকুর মোল্লা (৫৫), আলী আহমেদ (৩৫), মো. হোসেন (৩২), অন্তর (১৮) ও কামাল সাধু (৪০)। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পরে দোসরপাড়া গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোসরপাড়া গ্রামের কাশেম মোল্লা ও শুকুর মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিলো।
শুক্রবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
এরপর,খবর পেয়ে সিরাজদীখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লতব্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, সকালে একটি ছোট বিষয় নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। মূলত জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন টেটাবিদ্ধ হয়।
জানা গেছে, লতব্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. কাশেম ও মোল্লা বাড়ি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. কাশেম ও বাড়ি সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জাগো-নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দোসরপাড়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
শুভ ঘোষ/এনএইচআর