চলমান বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরান দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও নৌপরিবহনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হামলা চালায়, তবে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌপরিবহন কেন্দ্রগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
তার এই মন্তব্যে ইসরায়েলের কথাও ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং একে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।
ঘালিবাফের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো করলো।
এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়ায় ইরানে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। তবে আন্দোলন দমনে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরানের ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষায় কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ও ‘শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো’ ইরানের জননিরাপত্তা দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী সর্বাধিনায়কের নেতৃত্বে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে গ্রান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথম বিক্ষোভ শুরু করে। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চলমান আন্দোলন দমন করতে ইরান সরকার গ্রেফতার অভিযান ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে।
রাজধানী তেহরানসহ রাশত, তাবরিজ, শিরাজ ও কেরমান শহরে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের উত্তরে শনিবার (১০ জানুয়ারি) জনতা আতশবাজি ও হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে স্লোগান দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম