প্রশ্ন: ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগে? প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করলে বিয়ে হবে?
উত্তর: ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য নয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলেও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।
তবে মনে রাখতে হবে, ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে উভয় স্ত্রীর হক সমানভাবে, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়া আদায় করতে পারার শর্তে। উভয় স্ত্রীর মধ্যে সমতা বজায় রাখতে না পারলে, কিংবা হক আদায় করতে না পারলে দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, নারীদের মধ্যে যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তাহলে একটিই। (সুরা নিসা: ৩)
একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে সমান আচরণ না করলে আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার দুজন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবে। (সুনানে আবু দাউদ)
আর দ্বিতীয় বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য না হলেও স্ত্রীর প্রতি সদাচারের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা স্ত্রীকে বুঝিয়ে অনুমতি নেওয়া স্বামীর নৈতিক কর্তব্য। যেহেতু স্ত্রীর প্রতি সর্বক্ষেত্রে ন্যায় ও উত্তম আচরণ করা স্বামীর দায়িত্ব, স্ত্রীকে খুশি রাখাও স্বামীর একটি দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদের অপছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে অপছন্দ করছ, তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন। (সুরা নিসা: ১৯)
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুমিনদের মধ্যে ইমানে সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আপনাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (সুনানে তিরমিজি)
আরেকটি হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, নারীদের প্রতি কল্যাণের (ও সদাচরণের) উপদেশ অঙ্গীকার গ্রহণ কর। পাজরের হাঁড়ের সবচেয়ে বেশি বাঁকা হলো এর ওপরের অংশ। তুমি তাকে সোজা করতে গেলে তা ভেঙে ফেলবে। আর তাকে যথাবস্থায় রাখলে তা সদা বাঁকাই থেকে যাবে। নারীদের প্রতি কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ কর। (সহিহ বুখারি)
ওএফএফ