ভ্রমণ

অপার সৌন্দর্যের পুটনী দ্বীপ

মুহিবুল হাসান রাফি

খুলনার নৈসর্গিক প্রকৃতির শোভা, সুন্দরবনে অবস্থিত দ্বীপের নাম ‌‘পুটনী দ্বীপ’ বা ‘পুটনী আইল্যান্ড’। স্থানীয়দের কাছে এর নাম ‘দ্বীপচর’। একপাশে দিগন্ত জোড়া সমুদ্র, অন্যপাশে ঘন বনাঞ্চল। এরই মাঝখান দিয়ে সবুজ ঘাসের প্রান্তর এবং আঁকাবাঁকা খাল। এককথায় পুটনী দ্বীপ অপূর্ব। জোয়ার-ভাটার সাথে সাথে পুরো এলাকা একবার ভাসে, আরেকবার দেখা মেলে ধু-ধু বালুচর।

শেষ বিকেলের সূর্য এখানে অস্ত যায় আড়পাঙ্গাসিয়া নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায়। হরিণ আর মাছের অভয়ারণ্য হওয়ায় পুটনী দ্বীপে জেলে ও সাধারণ মানুষের তেমন আনাগোনা নেই। তবে আশপাশের অনেকেই কাঁকড়া আহরণ করতে দ্বীপে আসেন। দ্বীপের জঙ্গল ও খালে হরিণ এবং মাছের বিচরণ থাকলেও কোনো বাঘের উপদ্রব নেই বলে জানা যায়।

যেভাবে যাবেনপুটনী দ্বীপে যেতে চাইলে অবশ্যই বন বিভাগের অনুমতি লাগবে। এ ক্ষেত্রে অনুমতির জন্য মোংলা বন বিভাগের অফিস অথবা হিরণ পয়েন্টের বন বিভাগের অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। অনুমতি নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা থেকে ট্রলারে চরে দুবলার চর কিংবা হিরণ পয়েন্ট হয়ে পুটনী দ্বীপ যেতে পারবেন।

আরও পড়ুনপদ্মাপাড়ে ইলিশ ভোজনের ঠিকানা https://www.jagonews24.com/travel/article/1078230নীলফামারীর ডালিয়া ভ্রমণ: প্রথম পর্ব https://www.jagonews24.com/travel/article/1083016

কোথায় থাকবেনপুটনী দ্বীপে রাতযাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পিং করে থাকতে চাইলে জোয়ারের পানি পৌঁছাবে না এমন স্থানে তাঁবু স্থাপন করুন। এ ছাড়া হিরণ পয়েন্টে ট্রলারেও থাকতে পারবেন। নীলকমল, টাইগার পয়েন্টের কচিখালী এবং কটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউজে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা আছে।

কােথায় খাবেনযদি মোংলা থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে নিতে পারেন, তবে ট্রলারে বা দ্বীপে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে টেনশন করতে হবে না।

পরামর্শপুটনী দ্বীপে বড় লঞ্চে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই বিকল্প না ভেবে ট্রলার ভাড়া করুন। কম চলাচলের কারণে এই রুট অনেকের অজানা। তাই অভিজ্ঞ ও চেনাজানা চালক দেখে ট্রলার নিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ।

এসইউ