প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও মানবণ্টন পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ‘প্রাথমিকে স্তরে নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৬ অনুমোদন সংক্রান্ত মূল্যায়ন কমিটি’ এ প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
সভায় অংশ নেওয়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বিকেলে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তারা জানান, মূলত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের বিশেষ আগ্রহে নতুন এ মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়। বিষয়টি উপদেষ্টা অনুমোদন করাতে চেয়েছিলেন। সামনে জাতীয় নির্বাচন ও শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ায় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে কমিটির সদস্যরা এ পদ্ধতি চালুর বিরোধিতা করেন। এ কারণে প্রস্তাবটি ঝুলে গেছে।
সভা শেষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এনসিটিবির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি। এ সময়ে নতুন পদ্ধতি চালু করা হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসবে। তখন নতুন কারিকুলাম আসতে পারে। এ কারণে এখন আগের নিয়মই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক শিক্ষাক্রম উইংয়ের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার বলেন, প্রস্তাবটি পুরোপুরি নাকচ হয়নি। বর্তমানে এ পদ্ধতি আছে, সেটা থাকবে। তবে কিছু বিষয়ে মানবণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে। এটা নিয়ে পরবর্তীতে আরেকটি সভা হতে পারে।
আরও পড়ুনপ্রাথমিকে ফের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত পরীক্ষা (সামষ্টিক মূল্যায়ন) নেওয়া হয় না। আর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ নম্বরের ধারাবাহিক ও ৫০ নম্বরের সামষ্টিক মূল্যায়ন (লিখিত পরীক্ষা) রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এ মূল্যায়ন ও মানবণ্টন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছিল। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল। এতে ৫০ শতাংশ নম্বরের ধারাবাহিক এবং ৫০ শতাংশ নম্বরের সামষ্টিক মূল্যায়ন চালুর প্রস্তাব ছিল।
একই সঙ্গে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ লিখিত পরীক্ষা (সামষ্টিক মূল্যায়ন) এবং ৩০ শতাংশ নম্বরের ওপর ধারাবাহিক মূল্যায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। পাশাপাশি সামষ্টিক মূল্যায়নের মধ্যে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা রাখা হয়েছিল।
তবে সভায় তা নাকচ করে দিয়েছে প্রাথমিকের নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৬ অনুমোদন সংক্রান্ত মূল্যায়ন কমিটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নতুন পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এএএইচ/এমআইএইচএস/জেআইএম