আন্তর্জাতিক

লুটপাটে বইও ছাড় পেলো না, দিল্লি বইমেলায় তুলকালাম

ভারতে বইমেলার শেষ দিনে ব্যাপক লুটপাটের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ঘটনাটি ঘটেছে ‘নয়াদিল্লি বিশ্ব বইমেলায়’।

জানা যায়, নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপম কনভেনশন সেন্টারে গত ১০ জানুয়ারি শুরু হয় এই বইমেলা। রোববার ছিল মেলার শেষ দিন। কিন্তু এদিন বইয়ের স্টলগুলোতে ব্যাপক হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি ও বই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ একযোগে বইয়ের স্টলের দিকে ছুটে গিয়ে জোর করে বই টেনে নিচ্ছে। অনেক মানুষকে স্টলের সামনে লাফিয়ে পড়তে, বই আঁকড়ে ধরতে এবং বিশৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা যায়। এতে সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক ভারতীয় ব্যবহারকারী এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমাদের কী হয়েছে? দিল্লি বইমেলার শেষ দিনে এমন দৃশ্য! এটি একেবারে নৈতিক অবক্ষয়।’

What is wrong with us?Last day of the book fair in Delhi and look at the scenes. Moral fucking collapse.#delhi #WorldBookFair pic.twitter.com/sFKEiCbl10

— Sidharth Shukla (@sidhshuk) January 19, 2026

আরেকজন লিখেছেন, ‘এরা নাকি শিক্ষিত ও বইপড়া মানুষ। সুযোগ পেলেই আমরা নাগরিক শিষ্টাচার ভুলে যাই। চুরি করার সুযোগ পেলেই পশুর মতো আচরণ করি।’

একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘আমি তিনদিন আগে সন্তানদের নিয়ে বইমেলায় গিয়েছিলাম। তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল এবং আমাদের পরিবারের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। শেষ দিনের এই গুণ্ডামি সত্যিই দুঃখজনক। কবে আমরা সভ্য সমাজ হিসেবে পরিণত হবো?’

নয়াদিল্লি বিশ্ব বইমেলার আয়োজন করেছিল ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (এনবিটি), যা ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। নয় দিনব্যাপী এই আয়োজনে ৩৫টিরও বেশি দেশের এক হাজারের বেশি প্রকাশক অংশ নেন।

মেলা শেষ হওয়ার একদিন আগে শনিবার বইমেলা পরিদর্শন করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গতকাল নয়াদিল্লি বিশ্ব বইমেলা পরিদর্শন করতে পেরে আনন্দিত। সফরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত শেয়ার করছি।’

তবে ব্যাপক জনসমাগমের পাশাপাশি শেষ দিনের এই বিশৃঙ্খলা ভারতীয় রাজধানীতে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনে জনসমাগম ব্যবস্থাপনা ও জনআচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র: টাইমস নাউকেএএ/