কর্মজীবনে আমাদের প্রায়ই একটার পর একটা কাজ করে যেতে হয়। ধরুন আপনি একজন হিসাবরক্ষক। একই দিনে আপনাকে কর্মীদের বেতন হিসাব করা, নতুন কোনো প্রকল্পের বাজেট তৈরি, মজুদ কাঁচামালের হিসাব মিলানো এমন নানা দায়িত্ব সামলাতে হতে পারে। সব কাজই হয়তো হিসাবের মধ্যেই পড়ে, কিন্তু প্রতিটি কাজের ধরন, মনোযোগের ধরণ ও মানসিক চাপ এক নয়।
সমস্যা হয় তখনই, যখন আমরা একটি কাজ শেষ না হতেই সঙ্গে সঙ্গে আরেকটিতে ঢুকে পড়ি। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় আগের চিন্তার অবশিষ্ট প্রভাব। অর্থাৎ, একটি বিষয় নিয়ে ভাবা শেষ হলেও তার রেশ পুরোপুরি মাথা থেকে যায় না। ফলে পরের কাজে মন দিতে গেলে আগের কাজের চিন্তা মাঝেমধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এতে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং কাজের মানও কমে যেতে পারে।
এই চাপ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একটি কাজ শেষ করে পরের কাজে যাওয়ার আগে কিছুটা বিরতি নেওয়া। এই অল্প সময়ের বিরতিই মস্তিষ্ককে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
উচ্চ কর্মদক্ষতা নিয়ে লেখা একটি জনপ্রিয় বইয়ের লেখক ব্রেন্ডন বারচার্ডের মতে, বেশিরভাগ মানুষ দিনের পর দিন নানা ধরনের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে মানসিকভাবে অবসন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু যারা সত্যিকারের উচ্চ কর্মক্ষম, তারা এই পরিবর্তনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখে। তারা এক কাজ থেকে আরেক কাজে যাওয়ার মাঝখানে ছোট ছোট বিরতি নেয়। এই বিরতিগুলোই তাদের পরের কাজের জন্য আবার চাঙা করে তোলে।
অনেকেই এই সময়টুকু কাজে লাগান চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট ধ্যান করার মাধ্যমে। এতে মানসিক প্রশান্তি আসে, মাথা ঠান্ডা থাকে এবং পরবর্তী কাজ নিয়ে পরিষ্কারভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। এভাবেই তারা নিজেদের ভেতরে নতুন উদ্যম তৈরি করে নেয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া এই ছোট বিরতিগুলোর মাধ্যমে তারা শক্তি হারানোর বদলে বরং নতুন শক্তি সঞ্চয় করে।
দু’টি কাজের মাঝখানে সুযোগ থাকলে প্রায় ২০ মিনিটের বিরতি নেওয়া ভালো। সময় কম হলে অন্তত ১০ মিনিট চেষ্টা করুন। এই সময়টায় কাজসংক্রান্ত কোনো চিন্তা না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের পরিবেশ দেখুন, একটু হাঁটাহাঁটি করুন বা কয়েক মিনিটের জন্য হলেও ডেস্ক ছেড়ে উঠে পড়ুন। মস্তিষ্ককে তার নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন।
এভাবে বিরতি নিয়ে কাজ করলে পরের দায়িত্বটি আরও মনোযোগ ও দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব হয়। আর বিরতি না নিয়ে এক কাজ শেষ করেই যদি সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি শুরু করা হয়, তাহলে কাজের মান ভালো না হওয়ার ঝুঁকিই বেশি থাকে।
জেএস/