দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন ও হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসন আগের সীমানায় পুনর্বহাল করতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) মঞ্জুর করে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী শুনানিতে ছিলেন।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
আদেশের পর ইসির আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, নির্বাচন কমিশনের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে আসন দুটির ক্ষেত্রে সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত ইসির গত ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট বহাল থাকল। এই সীমানা অনুসারে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনগত কোনো বাধা নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে ইসি। এতে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ সংসদীয় আসন এবং হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসন পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–১ আসনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা, আর কুমিল্লা–২ আসনের মধ্যে ছিল হোমনা ও মেঘনা উপজেলা।
কুমিল্লার এই দুটি আসনসংক্রান্ত গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেটের অংশবিশেষের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহি উদ্দিনসহ ছয় ব্যক্তি গত বছর রিট আবেদন দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। এ মামলায় বিবাদী হিসেবে যুক্ত হন কুমিল্লা–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন ও মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা এম এ মিজানুর। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৮ জানুয়ারি রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায়ে দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলার পরিবর্তে দাউদকান্দি–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ সংসদীয় আসন এবং হোমনা–মেঘনা উপজেলার পরিবর্তে হোমনা–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশবিশেষ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়।
একই সঙ্গে আগের মতো দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন ও হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসন পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসিকে গেজেট প্রকাশ করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে ইসি ও কুমিল্লা–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করেন। আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের ১১ জানুয়ারির কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন শুনানি নিয়ে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেন। লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়।
এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইসি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন পৃথক লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, হাইকোর্টের রায় চেম্বার আদালত স্থগিত করেছিলেন। এই স্থগিতাদেশ চলমান রেখেছেন আপিল বিভাগ।
এফএইচ/এমএএইচ/এমএস