জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ পাচ্ছি না।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।
জিএম কাদের বলেন, ‘৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে জাতীয় পার্টি এখন পর্যন্ত ১৯৬টি আসনে চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। আরও দুজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন। আজ বা আগামীকালের মধ্যে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে অন্যায়ভাবে এবং নানা কৌশলে জাতীয় পার্টির স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে দলটিকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যার ফলে তারা একটি সমান সুযোগের পরিবেশ পাচ্ছে না।’
জিএম কাদের বলেন, ‘এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সে পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে না। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে বাধ্য।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ঘোষিত প্রার্থী তালিকার মধ্যে বর্তমানে তিনজন প্রার্থী কারাবন্দি অবস্থায় নির্বাচন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। কোনো মামলায় জামিন পাওয়ার পরপর নতুন মামলা দিয়ে তাদের আটক রাখা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপে সরবরাহ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এছাড়া দুজন প্রার্থী বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এসব মামলায় কোনো তদন্ত, চার্জশিট বা বিচার না হলেও মামলার ভয়ে তারা মাঠে স্বাভাবিক নির্বাচনি কার্যক্রম চালাতে পারছেন না।’
জিএম কাদের বলেন, ‘শুধু প্রার্থী নয়, জাতীয় পার্টির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে মাঠে নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে তারা নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না। নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করতে না পারলে কোনো দল সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারে না— এ বাস্তবতাও তুলে ধরেন তিনি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় পার্টিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক ভোটারকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হচ্ছে, জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করলে বা ভোট দিলে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হবে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকেও এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।’
জিএম কাদের বলেন, ‘এভাবে নগ্নভাবে নির্বাচন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করা হবে।’
এসময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএআর/আরএইচ