যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল বাজারে অবস্থিত হোটেল সানরুপে সংবাদ সম্মেলনেন এ অভিযোগ করে সংগঠনটি।
লিখিত বক্তব্যে ইমপোর্ট এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বেনাপোল দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর। যেখানে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। বাণিজ্য খাতে বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব আহরণ হয়ে থাকে। যা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখে আসছে। এক সময় বেনাপোল বন্দরে নানান অনিয়মের কথা শোনা গেলেও বর্তমানে কাস্টমস ও বন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অনেকটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরে এসেছে। তবে বন্দরে বহিরাগত চাঁদাবাজদের অত্যাচারে সরকারি কর্মকর্তা থেকে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁদা না দিলে নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলক মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে বেনাপোল বন্দর ছেড়ে ব্যবসায়ীরা ভোমরা বা অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে। সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব চাঁদাবাজদের মধ্যে সুমন হোসাইন নামের এক যুবক আলোচিত। সুমন হোসাইন বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির ঘটনায় বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন বেনাপোল পোর্ট থানায় সুমন হোসাইনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করে। অথচ চার্জশিট দাখিলের পরও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বন্দর চেয়ারম্যানকে গেস্টহাউজে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো ধৃষ্টতাও তিনি দেখিয়েছেন, যার ফলে বন্দরে তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল।
বর্তমানে সুমন বেনাপোল ছাড়লেও বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন পত্রিকার নাম ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে ইমপোর্ট এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মো. জামাল হোসেন/এমএন/এমএস