অর্থনীতি

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে কার ভাগে কত টাকা?

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বোতলজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাসের জন্য ভোক্তাকে ব্যয় করতে হবে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। যদিও বাজার থেকে এই দাম নয়, প্রায় দ্বিগুণ দামেও মিলছে না এলপিজি।

যেভাবে দাম নির্ধারণ হয়

এলপিজির এই দাম কীভাবে নির্ধারণ হয় তা নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে অনেক প্রশ্ন। প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণে কয়েকটি স্তরে ভাগ করেছে বিইআরসি। এলপিজি আমদানিতে সৌদি সিপি মানে সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস হিসেবে নির্ধারিত দামে এলপিজি আমদানি করতে সৌদি আরামকো এ দাম নির্ধারণ করে।

বিবিইআরসি সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, পেট্রোলিয়াম গ্যাসজাত পণ্য প্রোপেন ও বিউটেন সংমিশ্রণে এলপিজি তৈরি হয়। এতে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত থাকে ৩৫:৬৫। বিইআরসির গঠিত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬ মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুসারে প্রতি টন প্রোপেন ৫২৫ মার্কিন ডলার এবং বিউটেন ৫২০ মার্কিন ডলার। প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ হিসেবে গড় এলপিজির সৌদি সিপি মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৫২১ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার।

সৌদি সিপি মূল্যের সঙ্গে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম, অন্য চার্জ এবং জানুয়ারি ২০২৬ মাসে বিবেচিত এলপিজি আমদানিতে এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের গড় মূল্য ১২২ টাকা ৫১ পয়সা বিবেচনা করে জানুয়ারি ২০২৬ এর জন্য ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করেছে।

আরও পড়ুনরসিদ চাইলে গ্যাস সিলিন্ডার ‘নেই’বিপিসির এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্তে সংকট কি কাটবে?১০ বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে এলপিজির বাজার

কোন খাতে কত টাকা

ঘোষিত দাম অনুযায়ী, একটন এলপিজির সৌদি সিপি অনুসারে আমদানি পর্যায়ে মূল্য ৬৩ হাজার ৯২০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি এলপিজির সৌদি সিপি মূল্য ৬৩ টাকা ৯২ পয়সা। এর সঙ্গে জাহাজভাড়া, সরবরাহকারীর প্রিমিয়াম, অন্য আমদানি খরচ মিলে প্রতি কেজিতে ব্যয় ১৩ টাকা ৯৫ পয়সা, বটলার আমদানিকারকের মজুতকরণ ও বটলিং চার্জ হিসেবে প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা, প্রতি কেজি এলপিজিতে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ৭ টাকা ৪ পয়সা, ডিস্ট্রিবিউটর থেকে রিটেইলার পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ ডিস্ট্রিবিউটরের চার্জ হিসেবে ব্যয় প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা, রিটেইলারের কমিশন হিসেবে প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে প্রতি কেজিতে খুচরা পর্যায়ে মূল্য ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা। সে হিসেবে ১২ কেজি সিলিন্ডারে গ্যাসের মূল্য ১ হাজার ৩০৫ টাকা ৯৬ পয়সা। এসব দাম ধরে সরকার দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা।

আরও একটু স্পষ্ট করে দেখালে-

সৌদি সিপি প্রাইস প্রতি কেজি ৬৩. ৯২ টাকা হিসেবে ১২ কেজির মূল্য ৭৬৭.০৪ টাকা জাহাজ ভাড়া, সরবরাহকারীর প্রিমিয়াম অন্য আমদানি চার্জ কেজি প্রতি ১৩.৯৫ টাকা হিসেবে মূল্য ১৬৭.৪০ টাকা এলপিজি মজুতকরণ ও বটলিং চার্জ অপারেটরের কেজিপ্রতি ১৬ টাকা করে ১২ কেজির মূল্য ১৯২ টাকা মূল্য সংযোজন কর কেজিপ্রতি ৭.০৪ টাকা হিসেবে ১২ কেজির মূল্য ৮৪.৪৮ টাকা ডিস্ট্রিবিউটরের চার্জ (ডিস্ট্রিবিউটর থেকে রিটেইলার পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ) কেজিপ্রতি ৪.১৭ টাকা হিসেবে ৫০.০৪ টাকা।

রিটেইলার চার্জ কেজিপ্রতি ৩.৭৫ টাকা হিসেবে ১২ কেজিতে ৪৫ টাকা। সবমিলিয়ে কেজিপ্রতি ১০৮.৮৩ টাকা হিসেবে ১২ কেজি সিলিন্ডারপ্রতি মূল্য ১৩০৫.৯৬ টাকা।

আরও পড়ুনসিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে অরাজকতার মধ্যে পাইপলাইনের গ্যাসও নিভু নিভুএলসি জটিলতায় এলপিজি সংকট, ‘ঘি ঢালছেন’ ডিলার-খুচরা বিক্রেতাবঙ্গোপসাগর থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও এলপিজিবাহী ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’

যেভাবে ১৩শ টাকার গ্যাস ২৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে

গত কয়েক দিন জাগো নিউজের প্রতিবেদক এ খাতের প্রতিটি সেক্টরে কথা বলেছে। সবার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, মূল সমস্যাটা তৈরি হচ্ছে শেষ দুই ধাপে এসে। ডিস্ট্রিবিউটরের কমিশন ৫০ টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ৫শ বা তার বেশি টাকা নিচ্ছে রিটেইলার বা খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে। সংকটের কথা বলে তারা এটা নিচ্ছে।

আবার খুচরা বিক্রেতা প্রতি সিলিন্ডারে ৪৫ টাকা লাভ করার কথা থাকলেও তারা ভোক্তার কাছ থেকে ৮শ থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছে। ক্রয় রসিদ চাইলে দোকানি গ্যাস দিচ্ছে না। কারণ তারা ‘অনৈতিকভাবে’ সংকটের সুযোগ নিচ্ছে। এসব কারণে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে গ্রাহককে।

এমডিআইএইচ/এএসএ/এমএফএ/এমএস