আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া অধিকতর স্বচ্ছ, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করতে সারাদেশের সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আসন্ন এ নির্বাচনে রাজধানীসহ সারাদেশে ৩০০ আসনে সর্বমোট ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি থাকবে। এরই মধ্যেই সিসিটিভি স্থাপনের কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে সিসিটিভি স্থাপিত হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে (৫০ শতাংশেরও বেশি) অতিগুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ভোটগ্রহণের পুরো সময় কেন্দ্রগুলোর ভেতর ও আশপাশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, সর্বমোট ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে আগে থেকেই ৬ হাজার ৫৫২ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপিত ছিল। ফলে এসব কেন্দ্রে নতুন করে ক্যামেরা বসানোর প্রয়োজন পড়েনি। এতে একদিকে যেমন ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে দ্রুত পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, এরই মধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম সব জায়গায় শুরু হয়ে গেছে এবং বেশ জোরেসোরে চলছে। বেশ কয়েকটা জেলায় শতভাগের কাছাকাছি কেন্দ্রে মধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হলেও, এটিই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতিক এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত এসব অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্বাচনি সহিংসতা প্রতিরোধ, ভোটকেন্দ্র ঘিরে গুজব ও অপপ্রচার, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট সংযোগের স্থায়িত্ব ইত্যাদি মোকাবেলায় আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনের আগেই—সম্ভব হলে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই—সব ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা সরকারের লক্ষ্যে। এজন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন জেলায় উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কাজের অগ্রগতি পরি দর্শনও করছেন।
এমইউ/বিএ