বিনোদন

প্রেক্ষাগৃহে বসে জীবনের শেষ যে সিনেমা দেখেছিলেন নায়ক জাভেদ

বাংলা সিনেমার সোনালি সময়ের কিংবদন্তি চিত্রনায়ক ও নৃত্যশিল্পী রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস আর নেই। আজ বুধবার ( ২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ফোক ফ্যান্টাসি ধারার সিনেমার জনপ্রিয় এই অভিনেতা দর্শকদের কাছে ‘নায়ক জাভেদ’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যে ছিল তার অসাধারণ দখল। নৃত্য পরিচালনার মধ্য দিয়েই দেশীয় চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে নায়ক হিসেবেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

জীবনে শেষ যে সিনেমাটি তিনি প্রেক্ষাগৃহে বসে দেখেছিলেন, সেটি ছিল ‘মা বাবা সন্তান’। সিনেমাটিতে তিনি নিজেও অভিনয় করেছিলেন। ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ছবিটি সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সেই সময় টঙ্গীর আনারকলি সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখেন জাভেদ।

সে দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। হলে মাত্র কয়েকজন দর্শক ছিল। এই অবস্থা দেখে ভীষণ আফসোস হয়েছিল। আমরা যে সময়টায় কাজ করেছি তখন হলে হলে মানুষের সমুদ্র দেখেছি। কল্পনা করতে পারবে, কত মানুষ থাকলে মাথার ওপর দিয়ে গাড়ি চালানো যেত!’

১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইলিয়াস জাভেদের। এরপর তিনি প্রায় দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন। নব্বই দশক পর্যন্ত বাংলা সিনেমায় তিনি কাটান তার সুবর্ণ সময়।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল নৃত্য পরিচালক। নৃত্য পরিচালনা দিয়েই চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে শতাধিক চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রটি বিশেষভাবে দর্শকপ্রিয়।

জাভেদ ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি স্বপরিবারে পাঞ্জাবে চলে আসেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।

 

এমআই/এলআইএ