রাজধানীর উত্তরা থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আত্মহত্যার হুমকি দেন এক পাকিস্তানি নাগরিক। পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি এই ফোন করেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ৯৯৯ এর পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে ৯৯৯ এ পাকিস্তানি ওই নাগরিক ফোন করেন। উত্তরা সেক্টর-১৮ এলাকা থেকে ফোন করে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। চার বছর আগে তিনি এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তিনি মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা বেতন পান। বেতনের অধিকাংশ অর্থ স্ত্রীকে দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্ত্রী তাকে ব্ল্যাকমেইল করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে তিনি চরম মানসিক চাপে ভুগছেন।
এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, তিনি গাড়ি চালাতে চালাতে ফোন করছেন এবং যেকোনো সময় আত্মহত্যা করতে পারেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ৯৯৯ কলটেকার তাকে শান্ত হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং গাড়ি থামাতে বলেন। একই সঙ্গে আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
পাকিস্তানি নাগরিকের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী দ্রুত তুরাগ থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তুরাগ থানার পুলিশ দল কলারের বাসায় যায়। সেখানে পাকিস্তানি নাগরিকের সহকর্মী ও বন্ধুদের ডেকে আনা হয়। পরে খবর পেয়ে তার শাশুড়িও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এ সময় পাকিস্তানি নাগরিকের স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গভীর রাতে নিয়মিত বাসায় ফেরার অভিযোগ তোলেন। উপস্থিত সবার সামনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তাদের মধ্যে সাময়িকভাবে মীমাংসা করে দেয়।
পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার আরও জানান, উভয়পক্ষই তখন পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি। তবে ভবিষ্যতে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ।
কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ। পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় ও তদারকি করেন ৯৯৯ ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সন।
টিটি/এসএনআর