খেলাধুলা

আইসিসি বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে মাত্র একটি ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ

নিরাপত্তাঝুঁকির কারনে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না- এ বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা আইসিসিকে জানিয়ে দেয় বিসিবি। অন্তত দু’বার এ নিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইসিসির সঙ্গে মিটিং হয়েছে, শেষ পর্যন্ত আইসিসি কর্মকর্তা ঢাকায় এসে বৈঠক করে গেছে, বাংলাদেশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনোভাবেই অবস্থান নড়চড় করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

এ পরিস্থিতিতে জরুরি বোর্ড সভায় বসে আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টর্স। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই সভায় আইসিসি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারে না বলে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে ভোটাভুটি করা হয়।

জানা গেছে, বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিরেন ১৫জন ডিরেক্টর। যেখানে বাংলাদেশ মাত্র একটি দেশের ভোট পেয়েছে। বাকি দেশগুলোর সবাই ভোট দিয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। অর্থ্যাৎ, ১৫ ভোটের ১৩টিই মনে করে না বাংলাদেশের নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। শুধুমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে আইসিসিতে ভোট দিয়েছে।

ফলে, ভোটাভুটিতেই বাংলাদেশের দাবি নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি। এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য একদিন সময় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এর মধ্যে যদি আইসিসির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে না পারে, তাহলে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যাবে বাংলাদেশ।

সে ক্ষেত্রে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নিতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। জানা গেছে, পাকিস্তানছাড়া বাকি পরিচালকরা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বাংলাদেশ অংশ না নিলে বদলি দল অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ভোট দেন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি ও অন্যান্য সদস্য বোর্ডকে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের দাবিকে সমর্থন করছে। পিসিবির ওই চিঠির পরই পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বোর্ড সভা ডাকে আইসিসি।

সূত্রের দাবি, বোর্ড সভায় স্পষ্ট করে জানানো হয়— নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া সূচি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশ যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের স্বার্থে বিকল্প দল খেলানোর পথেই হাঁটবে আইসিসি।

এই সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ ও সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন বিসিবির পরবর্তী অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহল।

আইএইচএস/