শিক্ষা

স্কুলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৫৬% শিশুশিক্ষার্থী, নেই নজরদারি

রাজধানীর পল্টনে শারমিন একাডেমি নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। স্কুলটির অফিস কক্ষে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান ও তার স্বামী পবিত্র কুমার (স্কুলের ব্যবস্থাপক) শিশুটিকে দফায় দফায় মারধর করেন। ওই নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন অনেকে।

শারমিন একাডেমিতে শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় সামনে আসছে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র। অনেকে অভিভাবক এ নিয়ে মুল খুলছেন। বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ চিত্র।

অভিভাবক, শিক্ষা ও শিশু অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালার প্রয়োগ কম। নির্যাতনের ঘটনায় নজরদারিও কম। এ কারণে শিশু নির্যাতন বাড়ছে। অনেকে আবার বিষয়টি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এড়িয়ে যান। ফলে এমন নির্যাতনের যাতাকল থেকে শিশুদের রেহাই মিলছে না।

শিশু নির্যাতন নিয়ে গবেষণায় ‘ভয়াবহ চিত্র’

২০২৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) প্রকাশিত ‘ভায়োলেন্স এগেইনস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাক্টরস ইন আরবান এরিয়া অব ঢাকা, বাংলাদেশ’ (‘ঢাকা শহরে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও সম্পর্কিত কারণ’) শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারে ৫৮ শতাংশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৬ শতাংশ এবং খেলার মাঠে ৬৫ শতাংশ শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়।

বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ টু এন্ড অল করপোরাল পানিশমেন্ট অব চিলড্রেন (জিআই)’ ২০০১ সাল থেকে শিশুদের শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান শুরু করে। ২০২০ সাল থেকে প্ল্যাটফর্মটি ‘অ্যান্ড করপোরাল পানিশমেন্ট’ নামে কাজ করে।

আরও পড়ুনরাজধানীতে কিন্ডারগার্টেনে শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালস্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, অভিযুক্ত দম্পতি পলাতক

প্ল্যাটফর্মের বাংলাদেশ নিয়ে ২০২৪ সালের সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১১’ জারি করা হয়। তারপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার ঘটনা অহরহই ঘটছে। এজন্য শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে নীতিমালাটিকে আইনে রূপ দেওয়া দরকার। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশে বাসা-বাড়ি, ডে-কেয়ার সেন্টার ও শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে এখনো শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ হয়নি।

শিশুদের সুরক্ষায় করণীয় কী, বিশেষজ্ঞ-উপদেষ্টাদের মতামত

বিইউএইচএসের জনস্বাস্থ্য অনুষদের ডিন এবং প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বেগম রওশন আরা গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধ অবশ্যই করতে হবে। তা না হলে শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে ও মানসিক বিষণ্নতা তৈরি হবে। এটা শুধু শিশুর জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। শিশুর বিকাশ না হলে দেশ সুস্থ জাতি পাবে না। শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তির আওতায় এনে উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দার বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম।·তারপরও যে নীতিমালাটা রয়েছে, এর কারণে আগের চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শাস্তি দেওয়া বা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বেশ কমেছে। নজরদারি বাড়ালে নির্যাতনের ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এএএইচ/ইএ