ওসাত ইবনে ইসমাঈল বাজালি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুলের (সা.) ইনতিকালের পর একদিন আবু বকর (রা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, গত বছর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এই জায়গা দাঁড়ালেন, বলতে বলতে আবু বকর (রা.) কেঁদে ফেললেন, তারপর বললেন,
عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّهُ مَعَ الْبِرِّ وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ وَهُمَا فِي النَّارِ وَسَلُوا اللَّهَ الْمُعَافَاةَ فَإِنَّهُ لَمْ يُؤْتَ أَحَدٌ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرًا مِنَ الْمُعَافَاةِ وَلاَ تَحَاسَدُوا وَلاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَقَاطَعُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا
আপনারা সত্যবাদিতা অবলম্বন করুন। কারণ তা পুণ্যের সঙ্গী এবং এ দুটির অবস্থান জান্নাতে। আপনারা অবশ্যই মিথ্যা পরিহার করুন। কারণ তা পাপাচারের সঙ্গী এবং এ দুটির অবস্থান জাহান্নামে। আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন। ইমানের পর কাউকে সুস্থতা ও নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করা হয়নি। একে অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবেন না, সম্পর্কচ্ছেদ করবেন না এবং পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা ভাই হয়ে যান। (সুনানে ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমদ)
আবু বকর (রা.) ছিলেন আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যতম প্রধান ও প্রিয় সাহাবি। ইসলামের আবির্ভাবের পর প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে তিনি একজন। বলা হয় প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন মক্কার সর্বজনপ্রিয় ও প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি। আভিজাত্য, ভদ্রতা ও সুচরিত্রের জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তার ইসলাম গ্রহণ অন্য অনেককেই ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ জোগায়।
ইসলাম গ্রহণের পর ইসলামের প্রচার প্রসারে আবু বকরের (রা.) ত্যাগ-তিতিক্ষা, আল্লাহর ইবাদত, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় তার অগ্রগামিতা তাকে মুসলমানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত করে। মুসলমানদের মধ্যে নবীজির (সা.) পরই ছিল তার অবস্থান। নবীজি (সা.) তাকে সাহাবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। ওহাব আস-সুয়ায়ী থেকে বর্ণিত আলী (রা.) একদিন খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন, আপনারা কি জানেন নবীজির (সা.) পর এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে? সবাই বললেন আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি বললেন, না, নবীজির (সা.) পর এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবু বকর, তারপর ওমর। (মুসনাদে আহমদ)
ওফাতের আগে নবীজির (সা.) যখন খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তাকে নিজের জায়গায় নামাজের ইমামতির দায়িত্ব দেন। এটা ছিল নবীজির (সা.) পক্ষ থেকে সাহাবায়ে কেরামের জন্য একটি ইশারা যে, নবীজির (সা.) পর হজরত আবু বকরই (রা.) তার খলিফা বা স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। কিন্তু নবীজি (সা.) মৃত্যুর আগে স্পষ্ট করে আবু বকরকে (রা.) খলিফা নির্ধারণ করেননি। পরবর্তী নেতা নির্বাচনের বিষয়টি তিনি তার সাহাবিদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন।
নবীজির (সা.) ওফাতের পর সাহাবায়ে কেরাম সর্বসম্মতিক্রমে আবু বকরকে (রা.) খলিফা হিসেবে নির্বাচন করেন।
ওএফএফ