লাইফস্টাইল

অফিসের ডেস্কে ইনডোর প্ল্যান্ট কেন রাখবেন

অফিসে দীর্ঘ সময় কাজ করতে করতে কম বেশি সবাই একঘেয়েমি অনুভব করেন। এই একঘেয়েমি কাটাতে দরকার একটু রিফ্রেশমেন্ট। ইট-পাথরের শহরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজের চাপের মধ্যে থাকা স্বাভাবিকভাবেই মানসিক অবসাদ তৈরি করতে পারে।এই একঘেয়েমি দূর করতে এবং মনকে সতেজ রাখতে ডেস্কের ওপর ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা এক চমৎকার উপায়।

প্রশ্ন হতে পারে, কেন ডেস্কে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা উচিত? আসলে ডেস্কে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখার রয়েছে অনেক উপকারিতা। আসুন জেনে নেওয়া যাক অফিসের ডেস্কে ইনডোর প্ল্যান্ট কেন রাখবেন- 

১. মানসিক চাপ কমাতেশহরে বসবাসকারীরা, যারা দিনের অধিকাংশ সময় চার দেয়ালের মধ্যে কাজ করেন, অনেক সময় অজান্তেই মানসিক চাপের শিকার হন। এর অন্যতম কারণ হলো প্রকৃতি ও সবুজের সঙ্গে সংযোগের অভাব। এই ঘাটতি ধীরে ধীরে মানসিক অস্থিরতা বাড়ায় এবং ক্লান্তি ও উদ্বেগের অনুভূতি বৃদ্ধি করে।

চারপাশে গাছপালা থাকলে মানুষের মন স্বাভাবিকভাবেই ভালো থাকে। যদিও কর্মক্ষেত্রে গাছপালার উপস্থিতি তেমন দেখাও যায় না। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, গাছপালার উপস্থিতি মানসিক চাপ কমায় এবং ভালো লাগার অনুভূতি বাড়ায়। অফিস বা ঘরের ভেতরে সবুজের উপস্থিতি একটি প্রশান্ত এবং ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলে।তাই নিজের ওপর মানসিক চাপ কমাতে ডেস্কে মানানসই ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন।

২. কাজের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতেগবেষণায় দেখা গেছে, কর্মস্থলে ডেস্কের ওপর বা আশপাশে গাছ রাখলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গবেষক ড. ক্রিস নাইট ব্যাখ্যা করেছেন, প্রতি বর্গমিটারে মাত্র একটি গাছ যোগ করলেই স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীরা কাজে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারেন। প্রকৃতির সঙ্গে দৃশ্যমান সংযোগ মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে যা কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়, একঘেয়েমি কমায় এবং সামগ্রিকভাবে কর্মদক্ষতা উন্নত করে।

৩. আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতেগাছপালা ট্রান্সপিরেশন নামক প্রক্রিয়ায় তাদের পাতার মাধ্যমে জলীয় বাষ্প ছাড়ে। ফলে অফিসে প্রয়োজনীয় বাতাসের আর্দ্রতা বজায় থাকে। বিশেষ করে যেসব ঘরে এসি বা হিটার ব্যবহৃত হয় এবং বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, সেখানে গাছপালা স্বাভাবিক ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে খুবই উপকারী।

৪. বাতাসের মান উন্নত করতেগাছপালা প্রাকৃতিকভাবে বাতাস‌ র্নিমল করার কাজ করে। ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ বাতাস থেকে ক্ষতিকর গ্যাস ও দূষিত উপাদান শোষণ করে এবং পরিবর্তে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। বেনজিন, ফরমালডিহাইড ও ট্রাইক্লোরোইথিলিনের মতো ক্ষতিকর টক্সিন বাতাস থেকে কমিয়ে এনে গাছপালা ঘরের ভেতরের পরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

সূত্র: এসআরএ ইন্টারন্যাশনাল, দ্য প্ল্যান্ট ম্যান ডট কম

আরও পড়ুন: ব্যাচেলরদের শোবার ঘর গুছিয়ে রাখার সহজ কৌশল হঠাৎ অতিথি? অগোছালো ঘর গুছিয়ে ফেলুন চোখের পলকে 

সানজানা রহমান যুথী/এসএকেওয়াই