রাজনীতি

পুরান ঢাকার মানুষ কী চায়, জানা আছে প্রার্থীদের?

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুরান ঢাকার অলিগলিতে আসবেন প্রার্থীরা। তাদের কাছে এলাকার সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরবেন ভোটাররা। কিন্তু নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও এখনও অনেকেই প্রার্থীদের দেখা পাননি। তারা বলছেন, পুরান ঢাকার মানুষ কী চায় হয়তো অনেক প্রার্থীর এখনও অজানা।

ঢাকা-৬ আসনে প্রার্থী ৭ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের মধ্যে রয়েছে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাতজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইশরাক হোসেন, তার নির্বাচনি প্রতীক হলো ধানের শীষ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আব্দুল মান্নান, তার নির্বাচনি প্রতীক হলো দাঁড়িপাল্লা। জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু), তার নির্বাচনি প্রতীক হলো লাঙ্গল।

গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. ফখরুল ইসলাম, তার নির্বাচনি প্রতীক হলো ট্রাক। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আক্তার হোসেন, তার নির্বাচনি প্রতীক হলো হারিকেন। গণফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আহমেদ আলী শেখ, তার নির্বাচনি প্রতীক হলো মাছ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. ইউনুস আলী আকন্দ, তার নির্বাচনি প্রতীক হলো ডাব।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থীরা প্রচারণার মাঠে নেমেছেন। বড় শোডাউন বা মিছিল নয়, এবার কৌশল বদলে সরাসরি ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগেই জোর দিচ্ছেন তারা। প্রচারণা শুরুর আগেও নানা সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজেদের জানান দিচ্ছিলেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

ঢাকা-৬ আসনে ভোটার কত?

ঢাকা-৬ আসনটি পুরান ঢাকার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা নিয়ে গঠিত। এ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

এই আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। যার মধ্যে এক লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন পুরুষ ভোটার এবং এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন নারী ভোটার রয়েছেন। এছাড়া আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের তিনজন ভোটার রয়েছেন। এই আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার সংখ্যাও বেশি আছে।

আশ্বাসে অভ্যস্ত পুরান ঢাকাবাসী

সরু গলি, পুরোনো ভবন আর ঘন জনবসতির কারণে বিশেষভাবে পরিচিত ঢাকার এই আসন। এখানকার সমস্যা যেমন জটিল, তেমনি সমাধানও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি রাখে।

ঢাকা-৬ আসনের শাঁখারীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, বংশাল, ওয়ারী, ইসলামপুর, সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশার চিত্র উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:

প্রচারে জৌলুস কম, পোস্টার ছাড়া প্রার্থী চিনতে পারছেন না ভোটাররা 

পোস্টারহীন নির্বাচনে ছাপাখানার ‘শতকোটি টাকার’ ব্যবসায় ধস 

ভাগ্য নির্ধারণে তরুণ ভোটার, ইশতেহারে তাদের জন্য কী দিচ্ছে দলগুলো 

সূত্রাপুরের গৃহিণী সালমা খাতুন বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর এমপি সাহেবদের এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। আমাদের ড্রেনেজ সমস্যা, পানির সমস্যা একই রয়ে যায়।’ 

‘আমরা আশ্বাস পেতে-পেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ভোটের আগে সবাই আসে, কথা বলে। ভোট হয়ে গেলে আর খোঁজ মেলে না।’ বলছিলেন বংশালের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫)।

কলেজছাত্র ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের এমপি যদি এখানকার সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিতেন, তাহলে এত বছরেও একই সমস্যায় ভুগতে হতো না।’

ওয়ারীর বাসিন্দা রিনা দাস বলেন, ‘শিশুদের খেলাধুলার জায়গা নেই। রাস্তায় খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।’

‘বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমে থাকে। পয়ঃনালার দুর্গন্ধে চলাচল কঠিন হয়ে যায়।’ বলে জানালেন লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা নূর আলম। 

কোতোয়ালির প্রবীণ বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা চাই এমন প্রতিনিধি, যিনি পাঁচ বছর আমাদের সঙ্গে থাকবেন, শুধু ভোটের সময় নয়।’

ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের শিক্ষক মোশাররফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুরান ঢাকাবাসী তাকিয়ে আছে নতুন সূচনার দিকে। তারা চান এমন একজন যোগ্য প্রতিনিধি, যিনি মায়া ও ভালোবাসা দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করবেন। যিনি পুরান ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষা করবেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন এবং জনপ্রতিনিধিত্বকে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করবেন না।’

প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে যা বলছেন

প্রচারণায় নেমে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের নাগরিক সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। গ্যাস সংকট, যানজট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণে এলাকাটির জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি জানান, নির্বাচিত হলে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আরও পড়ুন:

৩৪ বছর পর গণভোট, চলছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীরা পিছিয়ে কেন? 

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দল সমর্থিত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, পুরান ঢাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। নির্বাচিত হলে যানজট, গ্যাস সংকটসহ নাগরিক সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

একই সঙ্গে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে জানান ড. মান্নান।

গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার। নির্বাচিত হলে নাগরিক সমস্যা সমাধানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।

এমডিএএ/এসএনআর/এমএমএআর