দেশজুড়ে

কেন্দ্রে গেলে নারীদের পা ভাঙার হুমকি বিএনপি কর্মীদের

নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লার নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, তিনটি থানার অংশ নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসন গঠিত। এখানে সদরের অংশের অশ্বাদিয়া ও নেয়াজপুর এলাকার জামায়াত সমর্থিত নারী ভোটারদের ঘরের বাহিরে বা কেন্দ্রে গেল পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বিএনপির কর্মীরা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ২২ জানুয়ারি নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে নারীদের উঠান বৈঠকে হামলা করা হয়েছে। যুবদল নেতা ছোটনের নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয়। একই ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল নেতা ওয়াদুদের নেতৃত্বে নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কবিরহাটে বিএনপির আব্দুল রহিম, রুবেল ও সাদ্দাম হোসেন রুমনের নেতৃত্বে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রামের মহিলা সমাবেশে বাধা ও হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে কবিরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ভোটারদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

জামায়াত প্রার্থী বলেন, এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ প্রশাসনকে বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এসব ঘটনায় আমরা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কিত।

বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপি-জামায়াত সমান অংশীদার। তাহলে বিএনপিকে কেন বেশি সুযোগ দেওয়া হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হোক। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই নির্বাচিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া পরিচালক ডা. বোরহান উদ্দিন, বসুরহাট পৌর জামায়াতের আমির মোশাররফ হোসাইন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা মো. ফয়সাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জামায়াতের অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তবে বাধা দেওয়ার বিষয়টি আমরাও শুনেছি। সেখানে জামায়াত কর্মীরা কোরআন ছুঁয়ে এবং বিকাশে টাকা পাঠিয়ে ভোটে প্রভাবিত করায় এলাকার লোকজন বাধা দিয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, নেয়াজপুর ইউনিয়নের এমন কোনো ঘটনা জামায়াতের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনের সময় সব এলাকায় পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক আছে। যে কোনো এলাকায় ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ