দেশজুড়ে

আমার বোনের মৃত্যু স্বাভাবিক না: সাদ্দামের শ্যালক

‘সবাই বলছে আমার বোন আমার ভাগনেকে মেরে ফেলছে। আমার বোন এই ঘটনা ঘটাতে পারে না এবং আমার বোনের মৃত্যুও স্বাভাবিক নয়। আমার বোনকে তারা মেরে ফেলছে, এই দায়ও আমি তাদের দিতে চাই না। তাদের বাড়ি সিসি ক্যামেরা আছে এবং সেটা ভয়েস রেকর্ড হয়। রেকর্ডের মাধ্যমে আসল ঘটনা জানা যাবে।’

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা নিহত সাদ্দামের স্ত্রী স্বর্ণালীর ভাই শাহনেওয়াজ আমিন শুভ এই ঘটনার অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

এদিকে শুক্রবার সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তান মারা যাওয়ার পর তার শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছিলেন তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সাদ্দামের শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে বাগেরহাট মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, আমার মেয়েকে হয়ত ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর আমার নাতি কীভাবে মারা গেলো, এটা জানার জন্য হত্যা মামলা করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিষয় বেরিয়ে আসবে।

এদিকে সার্বিক বিষয়ে কথা হয় সাদ্দামের মা ও ছোট ভাই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে।

সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বাগেরহাট শহরের বগা ক্লিনিক এলাকায় আসি। তখন পুত্রবধূ, নাতি, এক মেয়ে ও মেয়ের ছেলে বাড়িতে ছিল। দুপুরের দিকে পুত্রবধূ স্বর্ণালীরও ওই বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১টা ৪৫ মিনিটের তাকে পাশের বাড়ি থেকে মুঠোফোনে জানানো হয়, তার পুত্রবধূ গলায় আত্মহত্যা করেছেন। পরে তারা ছুটে আসেন।

তিনি বলেন, আমার খুব শান্তির সংসার, বউমা ও নাতিকে নিয়ে আমি থাকতাম বাড়িতে। বউমার সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমার সংসারে কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু কেন যে ও এমন করলো জানি না।

সাদ্দামের ভাই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সংসারে কোনো অভাব-অনটন ছিল না। আর আমার ভাই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। যারা এসব প্রচার করছে, তারা হয়ত কোনো অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করছে।

তিনি আরও বলেন, ভাবি আমাকে কয়েকবার বলেছেন যে দুই মাস হয়ে যায়, তার বাবা তাকে এবং তার ছেলেকে দেখতে আসেন না। এছাড়া অনেকে ভাবিকে বলেছেন, যে তার স্বামী (সাদ্দাম) আর কোনোদিন জেল থেকে বের হতে পারবেন না। এসব নিয়েও ভাবির মধ্যে হতাশা ছিল।

স্বর্ণালী ও সাদ্দাম নিজেদের পছন্দে কয়েক বছর আগে বিয়ে করেন। সন্তান জন্মের আগে থেকেই সাদ্দাম কারাগারে আছেন। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন সাদ্দাম।

সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা তার মামা হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, সাদ্দাম যশোর জেলে। তাই আমাদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। পরে বাগেরহাটের জেল সুপারের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন, আমাদের কোনো সুযোগ নেই। আপনারা যশোরে মরদেহ নিয়ে দেখা করিয়ে আসেন। পরে আমরা যশোরে দেখা করিয়েছি। সেখানেও মাত্র ৪-৫ মিনিট সময় দিয়েছে মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি জেলা প্রশাসন ও কারাগার থেকে আমাদের বলা হত যশোরে আবেদন করেন তাহলে আমরা যশোরে আবেদন করতাম। কিন্তু আমাদের কেউ জানায়নি যে যশোরে আবেদন করলে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। যেসব ধোঁয়াশা আছে সেগুলো তদন্তের বেরিয়ে আসবে।

প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির জন্য একটি আবেদন নিয়ে আসছিল। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। যেহেতু সে যশোরের কারাগারে আছে, আবেদন করতে হবে সেখানকার (যশোরের) জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে। তবে প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রে মুক্তি পেলে শুধু মাত্র ওই জেলার মধ্যে তার প্যারোলের হুকুমটা কার্যকর হবে। এখানকার প্রশাসন তাদের বিষয়ে যশোর জেলা কারাগারেও বলে দিয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছিল, যেন সুন্দরভাবে, সঠিকভাবে তাদের মৃত স্বজনের মরদেহ দেখতে পারে। আমরা তাদের সেখানে যাওয়া এবং দেখার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি।’

নাহিদ ফরাজী/এফএ/জেআইএম