আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টা ১০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান।
পোস্টে নুরুল হক নুর দাবি করেন, দেশে সংকট সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি অপশক্তি হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত প্রার্থীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা, নাশকতা এবং সভা-সমাবেশে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের ব্যবহার করে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
নূর তার পোস্টে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক নজরদারির আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, গত শনিবার রাতে লিফলেট বিতরণ শেষে পানপট্টি এলাকায় ফেরার পথে রাকিব নামের তার এক কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এছাড়া রোববার সন্ধ্যার পর চিকনিকান্দি এলাকা থেকে ফেরার পথে ডাকুয়া স্লুইজ বাজারের কাছে তার লোকজন পরিচয়ে কয়েকজন পথরোধ করে স্লোগান দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পরে পরিস্থিতি এড়িয়ে তারা সেখান থেকে সরে যান।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাসান মামুনের মাধ্যমে এলাকায় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এর আগেও চরকপালভেরা এলাকায় শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা রিয়াজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, এসব ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে মুঠোফোনে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত ১৮ জানুয়ারি হাসান মামুনের বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন নুর।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, নুরুল হক নুর ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা প্রত্যেক প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। মাঠে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো এবং হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির দুটি বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোটের প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাবেক জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবু বকর।
মাহমুদ হাসান রায়হান/এমএন/এমএস